পাকিস্তানে ধর্মদ্রোহের অভিযোগে বন্দী ৪০

এক দশকের কাছাকাছি সময় মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে শেষ পর্যন্ত চলতি মাসে কানাডা চলে যাওয়ার অনুমতি পেয়েছেন পাকিস্তানের আসিয়া বিবি। সম্প্রতি জানা যায়, ধর্মদ্রোহের অভিযোগে আরও ৪০ জন বন্দী রয়েছেন দেশটির কারাগারে।

এদের মধ্যে কেউ সাজা পেয়েছেন, কারো শাস্তি ঘোষণা সময়ের অপেক্ষা। সাজাপ্রাপ্তদের অনেকেই পেয়েছেন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। বাকিরা আসিয়ার মতোই মৃত্যুদণ্ড পেয়েছেন। তবে পাকিস্তানে এখনো পর্যন্ত ধর্মদ্রোহের অভিযোগে কারো ফাঁসি কার্যকর হয়নি।

ভারতীয় গণমাধ্যম জানায়- অভিযুক্তদের আইনজীবী ও পরিবার মনে করছে, আসিয়ার ঘটনা একেবারেই ব্যতিক্রম। অন্যদের ক্ষেত্রে এই লড়াই দিবাস্বপ্নের মতো। কারণ তারা বরাবরই জনতার চোখে কোণঠাসা। বেশির ভাগ আইনজীবীও তাদের হয়ে লড়তে চান না।

এদিকে নিম্ন আদালতের ওপরেও চাপ থাকে, এদের বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করতেই হবে। আপিল কোর্টে মৃত্যুদণ্ড বদলে বড়জোর যাবজ্জীবন হয়। কিন্তু সেটা পেতেও বছর গড়িয়ে যায়।

২০০২ সালে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল ওয়াজিহুল হাসানকে। তারপর থেকে পাল্টা আবেদন জানিয়ে মুক্তির জন্য দিন গুনছেন তিনি। গত বছরের নভেম্বরে আসিয়াকে যখন মুক্তি দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট, তার দু’সপ্তাহ পরেই একটি খ্রিষ্টান ওয়েবসাইটে হজরত মুহাম্মদ (স.)-কে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে লাহোরে দুই ভাই, কাইজার ও আমুন আইয়ুবকে ফাঁসির সাজা দেওয়া হয়।

ধর্মদ্রোহের বিরুদ্ধে অনেক মুসলিম দেশেই আইন রয়েছে। পাকিস্তানের আইনটি বেশ কড়া ও সহজেই এই আইন ব্যবহার করে কাউকে জেলে ভরা যায়। ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ উঠলে ১০ বছরের কারাবাস। অভিযোগ যত গুরুতর, তার ওপরে নির্ভর করে যাবজ্জীবন বা মৃত্যুদণ্ড।

বলা হচ্ছে, অভিযোগের নিশানা মূলত দরিদ্র সংখ্যালঘু খ্রিষ্টানরা। অনেক ক্ষেত্রেই মিথ্যা অভিযোগ ওঠে। এরপর আইন-আদালতের মারপ্যাঁচে গড়িয়ে যায় সময়। অন্যদিকে পরিবার শিকার হয় সামাজিক গঞ্জনার।