খাবার ঠিক থাকলে আর্থ্রাইটিসের ব্যথা রোজায় বাড়ে না

কিছু কিছু খাবার আর্থ্রাইটিসের ব্যথার পরিমাণ বাড়ায়। তাই রমজানে অনেক সময় দেখা যায় যারা আর্থ্রাইটিসে ভুগছেন, তাদের ব্যথা বেড়ে যায়। এর অন্যতম কারণ বেসন, ডালের তৈরি খাবার, অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাবার, অতিরিক্ত মিষ্টিজাত খাবার, বিচিযুক্ত খাবার, মাংস বা মাংসের কোনো আইটেম ইত্যাদি। একটু নিয়ম অনুসরণ করলে এর থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

অস্টিওআর্থ্রাইটিস : পুরুষদের তুলনায় মহিলারা এই যন্ত্রণাদায়ক রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। এই রোগের ফলে দেহের অস্থিসংযোগ স্থলের কাঠামোগত পরিবর্তন ঘটে। অতিরিক্ত ওজনের ক্ষেত্রে এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। কারণ অতিরিক্ত ওজন, যেসব গ্রন্থির সংযোগ অঙ্গ সমূহের ওজন বহন করে, যেমনÑ কোমর, হাঁটু এবং মেরুদ-। ওজন বাড়লে হাঁটুর ৩০-৬০ পা. শক্তির সঙ্গে অতিরিক্ত ১০ পা. যুক্ত হয়। অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হওয়ার জন্য ব্যথা বেড়ে যায়।

রিউমোটয়েড আর্থ্রাইটিস : সম্পূর্ণ দেহে তীব্র ব্যথা থাকতে পারে। এমনকি জ¦রও আসতে পারে। বয়স্কদের চেয়ে শিশুরা এই রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। সাধারণত পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের এই রোগ তিনগুণ বেশি হয়। গিঁটে ব্যথা, ফুলে ওঠা এর সাধারণ লক্ষণ।

গাউট : চিকিৎসা বিজ্ঞানে সবচেয়ে পুরাতন রোগ হিসেবে লোকে চেনে। গাউট বা গেঁটে বাত এমন একটা রোগ যার উদ্ভব জন্মগত ত্রুটির কারণে হয়। এই রোগ মেটাবলিজমের বিশৃঙ্খলা থেকে হয়। দেহে পিউরিন মেটাবলিজমের বিঘœ থেকে এই রকম বাত হয়। পিউরিনের বিপাক থেকে ইউরিক এসিড প্রস্তুত হয় যা বর্জ্য দ্রব্য হিসেবে রক্তে আসে। এই ইউরিক এসিডের লবণ নরম অস্থি, অস্থিসন্ধি ও তার আশপাশে পুঞ্জীভূত হয়ে জমে থাকে এবং এর জন্য ফোলা, ব্যথা এবং অস্থি বিকৃতি দেখা যায়। স্বাভাবিকভাবে পুরুষদের ৩০ বছরের মধ্যে এই রোগ দেখা দেয়, সেই তুলনায় এই ধরনের বাত মহিলাদের হয় না বললেই চলে।

আর্থ্রাইটিসের জন্য বর্জনীয় খাবার : চর্বিযুক্ত মাছ, খাসি বা গরুর মাংস, কলিজা, ফুসফুস, গুর্দা, মগজ, মাংসের স্টক, মাংসের ঝোল, মাশরুম, শুকনা শিমের বিচি, বিভিন্ন জাতের ডাল, মটর-মসুর ডাল, ফুলকপি, পালংশাক, পুঁইশাক, চা, কফি, কোকো, অতিরিক্ত বিচিযুক্ত বেগুন, বাঁধাকপি, চিংড়ি মাছ, সামুদ্রিক মাছ, লবস্টার, কচু, লতি, মেটে আলু, ঢেঁড়স জাতীয় পিচ্ছিল সব সবজি ইত্যাদি।

রোজায় যা করতে হবে: খাদ্য প্রস্তুতের সময় সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্য ব্যবস্থার দিকে নজর দিন। পর্যাপ্ত পরিমাণ ক্যালসিয়াম, আয়রন এবং ভিটামিন জাতীয় খাবার যোগ করুন। যেসব খাদ্যে ইউরিক এসিড আছে সেগুলো বর্জন করুন। সে জন্য বেসন, ডালের তৈরি খাবারগুলো বর্জন করতে হবে। হালিম তৈরি হয় সবধরনের ডাল ও মাংস দিয়ে তাই হালিম খেলেই ব্যথা বেড়ে যাওয়া স্বাভাবিক। প্রচুর লেবু পানি পান করুন। এসিডিটি যেন না হয়, তাই লেবু পানিতে সামান্য লবণ যোগ করতে পারেন। ব্যথা প্রশমনে আনারস অনেক উপকারী ফল। তাই রোজায় আনারস রাখুন। অতি মিষ্টিজাত খাবার যেমন জিলাপি বর্জন করুন। পেঁয়াজু খেতে চাইলে চালের গুঁড়া, আটা-ময়দার সহযোগে খেতে পারেন। লেমন জুস উপকারী।

লেমন জুসের রেসিপি : ১ গ্লাসের জন্য খোসাসহ মাঝারি সাইজের ১টা মাঝারি সাইজের এলাচি লেবু কিউব করে কেটে ১ গ্লাস পানিসহ ব্লেন্ড করুন এবং ছেঁকে নিন। তাতে সামান্য সাধারণ লবণ, সামান্য বিট লবণ ও এক চিমটি গোলমরিচ গুঁড়ো মিশিয়ে ভালোভাবে নেড়ে নিন যেন সব কিছু মিশে যায়। ইফতারের আগে আগে তৈরি করবেন যেন সঙ্গে সঙ্গে খাওয়া যায়।