রাজধানীসহ সারাদেশের বাজারে থাকা পাস্তুরিত (তরল) দুধ, প্যাকেট দুধ পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি দুগ্ধজাত খাবার ও গো-খাদ্য পরীক্ষার কথা বলা হয়েছে আদালতের আদেশে।
বিএসটিআই ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে এ আদেশ বাস্তবায়ন করে আগামী ২৩ জুন আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইওকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এ আদেশ দেয়।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হেলেনা বেগম চায়না। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ফরিদুল ইসলাম। বিএসটিআইয়ের পক্ষে ছিলেন সরকার এম আর হাসান মামুন।
এদিকে দুধ ও দইয়ে অনুজীব, কীটনাশক ও সীসার বিষয়ে প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের নামসহ ন্যাশনাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরির প্রধান অধ্যাপক ডা. শাহনীলা ফেরদৌসী আদালতের আদেশের প্রেক্ষিতে তার গবেষণা প্রতিবেদন হলফনমা আকারে জমা দেন।
আদালতকে তিনি জানান, তাদের পরীক্ষার ফল সঠিক আছে কিনা, তা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যাচাই করা হয়। আর পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পরই তা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রকাশ করা হয়। এই পরীক্ষার ক্ষেত্রে সেটিই করা হয়েছে।
এর আগে গত ১৫ মে ওই প্রতিবেদন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বিএসটিআই। মঙ্গলবারও সেই মনোভাব দেখায় বিএসটিআই।
এসময় শুনানিতে বিএসটিআই’র প্রতি উষ্মা প্রকাশ করে প্রতিষ্টানটির আইনজীবীকে উদ্দেশ করে আদালত বলেন, ‘অন্যের পরীক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, আপনারা নিজেরা কেন পরীক্ষা করেন না? আপনারা কি এতদিনেও পরীক্ষা করে রিপোর্ট দিতে পারলেন না? আপনাদের (বিএসটিআই) পরীক্ষায় সত্য উদঘাটন হচ্ছেনা কেন? আপনারা কাজ করার দায়িত্ব নিয়েছেন, কিন্তু দায়িত্ব পালন করছেন না। শুধু এসি রুমে বসে থাকবেন, তা হবে না। আন্তর্জাতিক পরীক্ষায় পাওয়া যাচ্ছে, কিন্তু আপনারা পারছেন না কেন?’
শুনানিতে বিএসটিআই’র আইনজীবী যৌথ টিম গঠনের মাধ্যমে বাজার থেকে বিভিন্ন দুধের নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষার নির্দেশনা চান। আদালত এক আদেশে সারাদেশের বাজার থেকে তরল দুধ, বিভিন্ন কোম্পানির প্যাকেটজাত দুধ, দুগ্ধজাত খাদ্যপণ্য ও পশুর খাদ্যপণ্যে কী পরিমাণ ব্যাকটেরিয়া, কীটনাশক এবং সিসা মেশানো রয়েছে, তা নিরূপণসহ জরিপ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে গৃহীত আইনি পদক্ষেপ প্রতিবেদন আকারে দাখিল করেতে পুনঃনির্দেশ দেন।