আমাদের দেশে বেশিরভাগ মা ও শিশু-কিশোরের মধ্যে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কম হতে দেখা যায়। হিমোগ্লোবিনের অভাবে রক্তে আয়রনের মাত্রা কমে গিয়ে অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়। রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া হলো এমন একটি শারীরিক অবস্থা যেখানে লিঙ্গ বা বয়সভেদে স্বাভাবিকের তুলনায় রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কম থাকে। বিভিন্ন ধরনের রক্তস্বল্পতা রয়েছে, এর কারণও ভিন্ন। কিন্তু দেহে লৌহের স্বল্পতাজনিত রক্তস্বল্পতা পৃথিবীর বেশিরভাগ স্থানে একটি প্রধান সমস্যা।
প্রকারভেদ : বিভিন্ন প্রকারের অ্যানিমিয়ার মধ্যে প্রধানÑ লৌহের অভাবজনিত অ্যানিমিয়া, ম্যাগালোব্লাস্টিক অ্যানিমিয়া (ভিটামিন বি১২ ও ফলিক এসিডের অভাবজনিত), পার্নিসিয়াস অ্যানিমিয়া (ভিটামিন বি১২-এর অভাবজনিত), প্রোটিনের অভাবজনিত অ্যানিমিয়া, ভিটামিন সি এবং পাইরিডক্সিনের অভাবে অ্যানিমিয়া। তবে আমাদের দেশে আয়রনের অভাবজনিত অ্যানিমিয়া বেশি দেখা যায়।
কারণসমূহের মধ্যেÑ রক্তে এরিথ্রোপ্রোটিনের অভাব হলে, রক্তে ফলিক এসিড এবং ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি হলে, রক্তে লৌহের পরিমাণ কম হলে, রক্তে ভিটামিন সি, পাইরিডক্সিন এবং অন্যান্য কিছু হরমোনের অভাব হলে, কৃমি থাকলে অ্যানিমিয়া হয়ে থাকে। রমজানে যেহেতু অটোফেজি প্রক্রিয়া চালু হয়, তাই কৃমি দূর করা খুব সহজ হয়।
গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মা, শিশু, কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে সচরাচর যে অ্যানিমিয়া দেখা দেয় তা লৌহের অভাবজনিত অ্যানিমিয়া। এই অ্যানিমিয়ায় রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ প্রতি ১০০ এমএলে ১০ গ্রামের নিচে নেমে যায় এবং আরবিসির সংখ্যা প্রতি ঘন মিলিলিটারে ৩০-৪৫ লাখ পর্যন্ত থাকে।
রমজান ছাড়াও অ্যানিমিয়ায় যে লক্ষণগুলো দেখা যায় দুর্বলতা, মুখম-ল ও দেহের রং ফ্যাকাশে হওয়া, একটু বেশি কাজ করলে শ্বাসকষ্ট দেখা যাওয়া, হাত-পা জ্বালা করা, বুক ধড়পড় করা, বুকে ব্যথা, মাথা ঘোরানো, সংজ্ঞা হারানো, অনিদ্রা, চোখে ঝাপসা দেখা, মাসিকের সময় নানারকম জটিলতা, খাদ্যে অরুচি, ক্ষুধামন্দা, হজমে ব্যাঘাত ইত্যাদি হয়ে থাকে। অ্যানিমিয়ার দৃশ্যমান সমস্যাগুলোর মধ্যে জিহ্বায় ঘা হওয়া, খাদ্যদ্রব্য গিলতে অসুবিধা, নখ পাতলা ও ভঙ্গুর হয়ে যায়।
অ্যানিমিয়া প্রতিরোধে রমজান মাসে যা করণীয় খাবারে প্রচুর মাছ, মুরগি/চর্বিছাড়া গরু/খাসির মাংস, চিংড়িমাছ, শুঁটকি, ডিম, দুধ, কলিজা, গাঢ় সবুজ ও হলুদ বর্ণের শাক- সবজি, খাদ্যশস্য, বিভিন্ন জাতের ডাল, খেজুর, বাদাম, তিল, তিসি, কালিজিরা ইত্যাদি রাখতে হবে। আয়রনসমৃদ্ধ শরবতের জন্য ইফতারে আখের গুড় পানিতে দিয়ে তার মধ্যে সামান্য কালিজিরা গুঁড়া, তোকমা ও সামান্য তিলের মিশ্রণ দিয়ে খাওয়ার চেষ্টা করুন। কাবাব ১টা, আধা কাপ হালিম রাখার চেষ্টা করুন। সঙ্গে অবশ্যই লেবু রাখুন। আয়রনের সঙ্গে ভিটামিন সি না খেলে দেহে আয়রন শোষণ হয় না। ইফতার ও সেহরির সঙ্গে সঙ্গে চা খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। কোনো সম্পূর্ণ খাবারের সঙ্গে সঙ্গে চা খেলে দেহে আয়রন শোষণ ঠিকমতো হয় না। আয়রনসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণের সময় ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খাবেন না। এতে দুটো প্রয়োজনীয় উপাদান আয়রন এবং ক্যালসিয়াম কোনোটাই দেহে শোষিত হয় না। যেমন কাবাব, হালিম খাওয়ার সময় দুধের তৈরি কোনো খাবার খাওয়া যাবে না।
ইমেল : info@dietcounselingcentre.com