পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দুই যুবককে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে পঞ্চগড় থানা পুলিশ। এরপর আসামিপক্ষের লোকজন বাদীপক্ষকে হুমকি-ধাকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবার এখন ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এদিকে মামলার প্রধান আসামি জেলা শিল্পকলা একাডেমির সদস্য ফজলুল হক সাগরকে (৩০) সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পঞ্চগড় শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক আবু তোয়াবুর রহমান এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এক কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টা ও তা ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে পঞ্চগড় শহরের মিঠাপুকুর এলাকার আকবর আলীর ছেলে ফজলুল হক সাগর এবং ডোকরোপাড়া এলাকার আমিনার রহমানের ছেলে জাফরুল ইসলাম অন্তরকে (১৬) গত শুক্রবার পুলিশ গ্রেপ্তার করে। ওইদিন তাদের বিরুদ্ধে পঞ্চগড় থানায় মামলা করেন ওই কিশোরীর মা।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, পঞ্চগড় গণপূর্ত বিভাগের প্রহরী এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমির নির্বাহী সদস্য ও মামলার প্রধান আসামি ফজলুল হক সাগরের নির্দেশে ছয় মাস আগে মামলার অন্য আসামি জাফরুল ইসলাম অন্তর পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী ওই কিশোরীকে কোচিং থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর সাগর স্থানীয় ডিসি পার্কের পাশে মিঠাপুকুর শাহি মসজিদের পাশে কবরস্থানসংলগ্ন রাস্তা থেকে মেয়েটিকে পাশের একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় এবং মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে। পরে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। এরপর কিশোরীর মা ফজলু ও অন্তরকে আসামি করে মামলা করেন।
কিশোরীর মা জানান, মামলার পর থেকে আসামিরা বিভিন্ন লোকজনের মাধ্যমে মীমাংসা করতে চাপ দিচ্ছে। তা না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে বলে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা মামলায় যা উল্লেখ করতে চেয়েছিলাম এখন মামলার এজাহারে সেগুলো দেখছি না। আমরা যে এজাহারটি লিখে নিয়ে গিয়েছিলাম তা বাতিল করে পুলিশ অন্য এজাহার লিখে দিয়েছে।’ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পঞ্চগড় থানার এসআই জাহেদুল ইসলাম জানান, আসামিদের গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তদন্তের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। মামলার এজাহার লেখার ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।