নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ডাম্পিং গ্রাউন্ড স্থাপনের জন্য অধিগ্রহণ করা জমির মালিকরা ক্ষতিপূরণের টাকা তুলতে গিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এ ছাড়া ক্ষতিপূরণের টাকা পেতে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবিরও অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রাপ্য মোট টাকার ১০ থেকে ১৫% ঘুষ না দিলে মিলছে না ক্ষতিপূরণের চেক। যারা এ টাকা দিতে পারছেন, তারাই চেক পাচ্ছেন। বাকিরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তবে ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা গেছে, সিটি করপোরেশন এলাকার বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ডাম্পিং গ্রাউন্ড স্থাপনে ২০১৮ সালের এপ্রিলে জেলা প্রশাসক সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি মৌজায় ২৩ দশমিক ২৯ একর জমি অধিগ্রহণ করেন। এরপর অধিগ্রহণ করা জমির মালিকরা ক্ষতিপূরণের টাকা তুলতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করেন। কিন্তু কার্যালয়ের সংশ্লিষ্টদের দাবি অনুযায়ী টাকা না দিলে কোনোভাবেই তাদের আবেদন মঞ্জুর হচ্ছে না। ফলে দিনের পর দিন ঘুরেও ক্ষতিপূরণের টাকা পাচ্ছেন না জমির মালিকরা। একাধিক জমির মালিক জানান, জমির মোট মূল্যের ওপর ১০ থেকে ১৫ শতাংশ টাকা দাবি করা হচ্ছে। এই টাকা না দিলে তাদের আবেদন মঞ্জুর করা হচ্ছে না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক জমির মালিক জানান, সংশ্লিষ্ট কজন তাদের কাছে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হারে টাকা দাবি করেছেন।
জালকুড়ি এলাকার কামাল মোল্লা ও শাহজাহান খোকন গত সোমবার বলেন, ‘আমাদের সাড়ে ১২ শতাংশ জমির ক্ষতিপূরণ আসে দেড় কোটি টাকা। এ বিল দিতে আমাদের কাছে ১০% টাকা দাবি করেন সংশ্লিষ্টরা। আমরা ৮% হিসাবে ১২ লাখ টাকা দিতে রাজি হয়েছি। কিন্তু গত ১০ দিনেও আমাদের আবেদনটি মঞ্জুর করা হয়নি।’
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রাব্বি মিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। জেলা ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা সারাওয়াত মেহজাবীন অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।