পরপর দুই বিজ্ঞাপন নির্মাণ করে বিতর্কের মুখে পড়ছেন হাল প্রজন্মের নির্মাতা নুহাশ হুমায়ূন। মোবাইল ফোন ও পেইন্টের বিজ্ঞাপনের বিষয়বস্তু নিয়ে কেউ কেউ সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের অভিযোগ তুলেছেন। আবার অনেকেই হুমায়ূন আহমেদের ছেলের পক্ষ নিয়েছেন। যদিও এ নিয়ে নুহাশ এখনো মুখ খোলেননি।
সম্প্রতি প্রচারে আসা টেকনো মোবাইলের বিজ্ঞাপনের ঘটনা প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকার। যেখানে রমজানে সেহরি ও ইফতারের সময় জানার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় রাফি নামের একজন পাহাড়ি ছেলে দোকানে আজান শুনে দৌড়ে দৌড়ে সবাইকে জাগায়। সেখানে একজন জেগে উঠে ধমক দিয়ে বলেন, “আমি হিন্দু।” এরপর এক পরিবারের সঙ্গে ইফতার করতে দেখা যায় রাফিকে। একে কেউ কেউ বলছেন পাহাড়ে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসনকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হয়েছে। তুলে ধরছেন নানা অসংগতি।
অন্যদিকে বার্জার পেইন্টের বিজ্ঞাপন ধারণ করা হয়েছে ‘আলপনা গ্রাম’ নামে পরিচিতি চাঁপাইনবাবগঞ্জের বরেন্দ্র এলাকার টিকোইল গ্রামে। যেখানে মাটির তৈরি ঘরে যুগের পর যুগ ধরে নারীরা আলপনা এঁকে চলেছেন। বিজ্ঞাপনের ভাষ্য এমন- নানা রকম মাটি ও গাছ-লতা থেকে তৈরি রং-আঠার আঁকা আলপনা টেকসই নয়। তার বদলে বার্জার পেইন্ট ব্যবহারের কথা বলা হয়। যাকে অনেকে ঐতিহ্য নষ্ট ও করপোরেট আগ্রাসনের চিত্র হিসেবে দেখছেন। এ ছাড়া বলা হচ্ছে, পেইন্ট দিয়ে মাটিতে আলপনা আঁকা যায়নি।
দুই বিজ্ঞাপন নিয়েই অনেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছে। পক্ষ-বিপক্ষ তর্ক চলছে। বিজ্ঞাপনের কারিগরের নুহাশ জানিয়েছেন শিগগিরই সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের মাধ্যমে নিজের অবস্থান খোলাসা করবেন।
বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি বেশ কিছু ফিকশন ও মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করেছেন নুহাশ।