বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে অংশ নেবেন না বিএনপি চেয়ারপারসন কারাবন্দি খালেদা জিয়া।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার কাছে তার জন্য বিএনপির কেনা মনোনয়নপত্র বুধবার নিয়ে গেলে তিনি তাতে স্বাক্ষর করেননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খালেদা জিয়ার একজন আইনজীবী দেশ রূপান্তরকে এ কথা জানিয়ে বলেন, ‘তিনি বলেছেন- আমি উপনির্বাচন করব না। যারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তারাই করুক।’
গত ৩০ ডিসেম্বরের সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসনে জয়ী হন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ায় গত ৩০ এপ্রিল আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। তফসিল অনুসারে, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন আজ ২৩ মে, বাছাই আগামী ২৭ মে, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ৩ জুন, প্রতীক বরাদ্দ ৪ জুন এবং ভোট ২৪ জুন।
দুর্নীতির মামলায় কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন ১৯৯৬ সাল থেকে এই আসনে টানা তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দুবার উপনির্বাচনেও আসনটি বিএনপির হাতেই থাকে। তবে ২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচন বর্জন করায় আসনটি জাতীয় পার্টির দখলে চলে যায়। ১৯৭৩ সালের প্রথম সংসদ নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়েছিল। ১৯৮৬ সালে বিএনপিবিহীন নির্বাচনে আসনটি পেয়েছিল জামায়াতে ইসলামী।
ওই আইনজীবী আরও জানান, গত মঙ্গলবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বগুড়া জেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতাদের বৈঠক হয় বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচন নিয়ে।
এ সময় বগুড়া জেলা বিএনপির নেতাদের অনুরোধে এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে খালেদা জিয়ার জন্য ফরম কেনা হয়। পরে সেই ফরমে স্বাক্ষরের জন্য খালেদা জিয়ার কাছে নেওয়া হলে তিনি তাতে স্বাক্ষর করেননি। এ সময় তিনি উপনির্বাচনে অংশ না নেওয়ার বিষয়ে তার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেন। পরে জেলা নেতারা লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমানকে বিষয়টি জানালে খালেদা জিয়ার ফরম বাদে বাকি চারজনকে মনোনয়নপত্র জমা দিতে বলা হয়।
ওই আইনজীবী জানান, বৃহস্পতিবার বাকি চারজন মনোনয়নপত্র জমা দেবেন। তারা হলেন- বগুড়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক এমপি জি এম সিরাজ, সাবেক জেলা সভাপতি ও বগুড়া পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবর রহমান, সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁন।
উপনির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক টি জামান নিকেতা। জাতীয় পার্টির প্রার্থী জেলার সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম ওমর। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র তুলেছেন সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুর রহমান রাজ ভাণ্ডারী, শ্রমিক নেতা সৈয়দ কবির আহমেদ মিঠুসহ চারজন।