প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা

প্রশ্নফাঁস ও জালিয়াত চক্র থেকে দূরে থাকার পরামর্শ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষাকে সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকসহ বিভিন্ন মহল ও সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে সক্রিয় জালিয়াত ও প্রশ্নফাঁস চক্র থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। চার ধাপে হতে যাওয়া এবারের নিয়োগ পরীক্ষার প্রথম ধাপে লিখিত পরীক্ষা হবে আগামীকাল শুক্রবার (২৪ মে)। প্রথম ধাপে এ পরীক্ষা হবে ২৫টি জেলায়।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এর মধ্যে প্রশ্নপত্র ছাপার কাজ প্রায় শেষ। প্রশ্নপত্র ছাপা শেষে পরীক্ষার দিন ৩০ মিনিট আগে প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হবে। গত রবিবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) ওয়েবসাইটে প্রথম ধাপের পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র সংযুক্ত করা হয়েছে। পরীক্ষার্থীরা ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ডের মাধ্যমে নিজ নিজ প্রবেশপত্র সংগ্রহ করছেন।

এবার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও জালিয়াত চক্র যেন কোনো সুবিধা করতে না পারে সে জন্য নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম আল হোসেন গতকাল বুধবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও বিতরণের জন্য একটি ১৪ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। মোট ৯টি প্রশ্নসেট প্রণয়ন করা হবে। এর মধ্যে লটারির মাধ্যমে একটি সেট নির্ধারণ করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রশ্নফাঁস রোধে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। আগের চেয়েও এবারের পরীক্ষায় আরও বেশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যদি কেউ প্রশ্নপত্র ফাঁস বা গুজব ছড়ায় তবে তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়া হবে। এ জন্য পর্যাপ্ত মনিটরিং বসানো হয়েছে।’

সচিব আরও বলেন, ‘আমরা মনে করি প্রশ্নপত্র ফাঁস ও জালিয়াতির সুযোগ নেই। তারপরও আমাদের কাজ পরীক্ষার্থীদেরকে সতর্ক করা। আমরা আমাদের রুটিন কাজের আওতায় কিছুদিন আগে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছি।’

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, এবার নিয়োগ পরীক্ষা বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তত্ত্বাবধানে সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজড পদ্ধতিতে নেওয়া হবে। নির্ধারিত জেলায় পরীক্ষার আগের রাতে ইন্টারনেটের মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে প্রশ্নপত্রের সব সেট পাঠানো হবে। পরীক্ষার দিন সকাল ৮টায় প্রশ্নপত্র ছাপিয়ে তা কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হবে। পৌর এলাকার মধ্যে এবার পরীক্ষা নেওয়া হবে। আবেদনকারীর আসন ও প্রশ্নের সেট বুয়েট অত্যাধুনিক সফটওয়্যারের মাধ্যমে নির্ধারণ করে দেবে।

এদিকে লিখিত পরীক্ষার তৃতীয় ও চতুর্থ ধাপের সংশোধিত সূচি প্রকাশ করেছে ডিপিই। গত বৃহস্পতিবার পরীক্ষার সংশোধিত তারিখ এবং কোন ধাপে কোন কোন জেলার পরীক্ষা হবে তা প্রকাশ করা হয়। তিন পার্বত্য জেলা বাদে ৬১ জেলার ২৪ লাখ ১ হাজার ৯১৯ জন প্রার্থীর প্রায় ১২ হাজার পদের বিপরীতে এই পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।