নিখুঁত সুন্দরী বা ‘পারফেক্ট বিউটি’ বলা হত এই নায়িকাকে। ১৯৭৭ সালে মিস ইন্ডিয়া হয়েছিলেন তিনি। সুন্দর মুখ ও ‘পারফেক্ট ফিগারের’ জন্যই একের পর এক ফ্যাশন ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে জায়গা করে নেন তিনি।
বলিউডে ‘ত্রিশূল’ ছবি দিয়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন এই নায়িকা। বক্স অফিসে সাফল্য পেয়েছিল সেটি। ‘গাপুচি গাপুচি’ গানটি হয়েছিল সুপার হিট।
১৯৭৯ সালে ‘নুরি’ ছবি দিয়ে সুপারহিট স্টার হয়ে উঠেছিলেন পুনম ঢিলোঁ। পরবর্তীকালে রাজেশ খান্নার সঙ্গে তার জুটি ছিল সুপারহিট।
দর্দ’, ‘নিশান’, ‘জমানা’, ‘আওয়াম’ ছবিগুলি তাকে দর্শকদের মনে চিরস্থায়ী জায়গা করে রেখে দিয়েছে। পুনমের ছবি ‘রেডরোজ’ বক্স অফিসে সাফল্য না পেলেও সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছিল।
‘কালা পাত্থর’, ‘বিবি ও বিবি’, ‘ইয়ে তো কামাল হ্যায়’, ‘তেরি মেহেরবানিয়া’, ‘কর্মা’, ‘বাটওয়ারা’, ‘কসম’, ‘সোনি মাহিওয়াল’ ছবিগুলির পর তাকে এক বার দেখার জন্য দর্শকদের ভিড় লেগে থাকত মুম্বাইয়ের বাড়ির সামনে।
তামিল, কন্নড়, বাংলাতেও ছবি করেছেন তিনি। মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে তার জুটিও পছন্দ করতেন দর্শকরা। বাংলায় ‘ন্যায়দণ্ড’ নামে একটি ছবি করেছিলেন তিনি।
১৯৮৮ সাল নাগাদ পরিচালক অশোক থাকেরিয়ার প্রেমে পড়েন তিনি। এক ছেলে আনমোল এবং এক মেয়ে (পালোমা) রয়েছে তার।
বিবাহিত জীবনে প্রথমে বেশ ভালোই ছিলেন, ছেলেমেয়েরাও বড় হচ্ছিল আস্তে আস্তে। তবে ফিল্মে কাজের সময় এক বলিউড তারকার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্কের কথা বি টাউনে রটে গিয়েছিল।
সানি দেওলের সঙ্গে নাকি পুনমের ঘনিষ্ঠতা ছিল, এমনটাই বেশ কয়েকটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল।
১৯৯৭ সালে বিচ্ছেদ হয়ে যায় পুনমের। এরপর থেকে দুই সন্তান নিয়ে চণ্ডিগড়ে এক আত্মীয়ের সঙ্গে থাকতেন তিনি। পুনমের সন্তানরাই নাকি চাননি, মা বলিউডে বেশি কাজ করুক। আস্তে আস্তে ছবি করা কমিয়ে দেন তিনি
পদ্মিনী কোলাপুরে এবং রতি অগ্নিহোত্রীর সঙ্গে গভীর বন্ধুত্ব ছিল তার। এক সময় অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন পুনম। সেখান থেকে বন্ধুরাই বের করে আনেন তাকে।
পরবর্তীতে টিভি সঞ্চালিকার কাজ করেছেন তিনি। ২০০৪ সালে কংগ্রেসে যোগদান করেন।
২০০৫ সালে মঞ্চেও কাজ করেছিলেন। তাকে বিভিন্ন সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবেও দেখা গেছে পরবর্তীতে।
সার্কের বাণিজ্য সম্মেলনে তার বক্তৃতা প্রশংসা পেয়েছে পরবর্তীতে। তিনি ‘কালচারাল অ্যাম্বাসাডর’ ছিলেন। বর্তমানে নিজের ছবি প্রযোজনা সংস্থা রয়েছে তার।