সরকার রাজনৈতিক কারণে ইচ্ছাকৃতভাবে খালেদা জিয়ার প্রাপ্য জামিন না দিয়ে তাকে কারাবন্দী করে রেখেছে। সরকারের এতো দুর্বলতা কেন? এমন প্রশ্ন করছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
থাইল্যান্ডে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, “রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা না করে আইন আদালত ব্যবহার করা হচ্ছে। যে সব মামলায় জামিন পাওয়ার কথা তাও দিচ্ছে না। অথচ প্রতিহিংসার কারণে বেআইনিভাবে খালেদা জিয়াকে ১৬ মাস সরকার কারাগারে রেখেছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-এমপিরা সাজাপ্রাপ্ত হয়েও বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।”
বিএনপির চেয়ারপারসনে শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে উল্লেখ করে বলেন, “তার দুই হাত-ই নড়ছে না। তারা কি খালেদা জিয়াকে কারাগারেই মেরে ফেলতে চাচ্ছে? আমি আবারও বলতে চাই, তার যদি কোনো ক্ষতি হয় সে জন্য সরকার সম্পূর্ণ দায়ী থাকবে।”
বিএনপি মহাসচিব বলেন, “খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। তার ডায়বেটিস কন্ট্রোলে নেই, এমনকি ইনসুলিন নেওয়ার পরও তার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসছে না। চিকিৎসা না হলে পরিণতি যা হওয়ার কথা ছিল তাই হয়েছে।”
মির্জা ফখরুল বলেন, “খালেদা জিয়া এত দিন বাম হাত নাড়াতে পারতো না, এখন ডান হাতও নাড়াতে পারছে না। সাহায্য ছাড়া তিনি বিছানা থেকে উঠতে পারছে না। তার মাংসপেশি শুকিয়ে যাচ্ছে। সরকারের উচিত ছিল খালেদা জিয়ার অবস্থা জানিয়ে বুলেটিন দেওয়া। কিন্তু আজ পর্যন্ত তারা এমন কিছু করেনি।”
ভারতের নির্বাচনে বিজেপি দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার বিষয়টিকে কীভাবে দেখছে বিএনপি- জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, “বিএনপি পরে এ বিষয়ে বিবৃতি দেবে।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দীন সরকার, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান এ জেড এম জাহিদ হোসেন প্রমুখ।