ধান উৎপাদন ও কৃষকদের প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে জাতীয় পার্টির পক্ষ নিয়ে ভুল তথ্য দিলেন বিদিশা এরশাদ। শুক্রবার নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে একটি পোস্টে তিনি এই ভুল তথ্য দেন।
নাচোল বিদ্রোহ, তেভাগা আন্দোলন ও নকশালপন্থীদের স্লোগান 'লাঙ্গল যার জমি তার' এবং 'জাল যার জলা তার' ভুলভাবে উপস্থাপন করে কৃষিখাতে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ও জাতীয় পার্টির জয়গান করে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন তিনি।
দেশ রূপান্তরের পাঠকদের জন্য বিদিশার ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো:
“জাতীয় পার্টি ক্ষমতা থাকা কালিন সময়ে কৃষক দরদি দুটি শ্লোগান খুব জনপ্রিয় ছিল,
*"লাঙ্গল যার জমি তার",
*"জাল যার জলা তার"।
এরশাদ এর জাতীয় পার্টি প্রায় ৩০ বছর ক্ষমতায় নেই, তারপরও কৃষিতে আজকের এই সাফল্য থেকে এরশাদ-কে বাদ দেওয়া যাবেনা। আমার এই কথা শুনে অনেকে হয়ত চোখ কপালে তুলবেন। আমি এই কৃষিতে এই অর্জনের পিছনের কারনটা কি সে বিষয়ে দৃষ্টি ফেরানোর কথা বলছি।
মূলকারণ "উপজেলা" ব্যাবস্থা। অনেকে হয়ত দ্বিমত পোষন করবেন। এরশাদ সরকার যখন "উপজেলা পরিষদ" গঠনের উদ্যোগ নেন তখন প্রায় প্রতিটি রাজনৈতিক দল এই উপজেলা পরিষদ গঠনের বিরোধীতা করেছেন এমনকি এই উপজেলা পরিষদ গঠন ঠেকানোর জন্য এমন কোন কাজ ছিলনা যা তখনকার বিরোধী দলগুলো করেনি। যদি উপজেলা পরিষদ এরশাদ সরকার পরিপূর্ন উপজেলা বা স্বশাসিত উপজেলা করে যেতে পারেননি। বিরোধী দলের চরম বিরোধীতা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারনে।
আমাদের কৃষি সাফল্যের পিছনের উপজেলা পরিষদ এর ভূমিকার কথাটি বুঝাতে চেয়েছি। উপজেলার প্রশাসনের ২৬টি ক্যাডারভুক্ত কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সহ প্রায় সব ক্যাডারের একজন বিসিএস কর্মকর্তা উপজেলা পরিষদে কর্মরত। ৯০ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর উপজেলা পরিষদ বন্ধ করে দেয়, পরবর্তী আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর উপজেলা পরিষদ চালু করেনি। ১/১১ সরকার পুনরায় উপজেলা পরিষদ চালু করে। আমি বলতে চাই আজকে কৃষি উৎপাদনে সাফল্যের সবচেয়ে বড় অবদান জাতীয় পার্টি-র এরশাদ সাহেব ও তার দলীয় প্রতিক লাঙ্গল”।
বি: দ্র: ফেসবুক পোস্টের বানান অবিকৃত রাখা হয়েছে।