চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন সড়কে ওয়াসার খোঁড়াখুঁড়ির কারণে নগরবাসীর দুর্ভোগ চরম পর্যায়ে ঠেকেছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) কর্র্তৃপক্ষ সড়কের সংস্কার করার পরই সেই সড়কে পাইপলাইন বসানোর জন্য খোঁড়াখুঁড়ি করছে ওয়াসা। দুই প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়হীনতায় জনভোগান্তি ক্রমেই বাড়ছে। ওয়াসা বলছে, তাদের এই কার্যক্রম চলবে আরও চার বছর। এই অবস্থায় নগরবাসীর দুর্ভোগ সহনীয় পর্যায়ে রাখতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে ওয়াসাকে অনুরোধ জানিয়েছে চসিক।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরের মুরাদপুর-অক্সিজেন সড়কের হামজারবাগ এলাকায় এখন সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি চলছে। সড়কটি হয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও হাটহাজারীগামী হাজারো যানবাহন চলাচল করে। ব্যস্ততম এই সড়কটি খোঁড়াখুঁড়ির কারণে সারাদিনই যানজট লেগেই থাকছে। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রী ও পথচারীদের।
হামজারবাগ এলাকার বাসিন্দা জামশেদ রাসেল বলেন, নগরের উন্নয়ন মানে কেবল সড়ক মেরামত নয়, নগরবাসীর জন্য নিরাপদ পানি সরবরাহও নিশ্চিত করতে হবে। আর পানি সরবরাহ করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত সড়ক খোঁড়াখুঁড়িও জনভোগান্তি বাড়াচ্ছে। এই বিষয়ে ওয়াসা ও সিটি করপোরেশনের মধ্যে সমন্বয় থাকা দরকার। সড়ক মেরামতের আগেই পাইপলাইন বসালে দুর্ভোগ কিছুটা কমবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম ওয়াসা বর্তমানে চকবাজার থেকে পাঁচলাইশ, পাঁচলাইশ থেকে মুরাদপুর, হালিশহর বড়পোল এলাকায়, চিটাগাং শপিং কমপ্লেক্স এলাকায়, চান্দগাঁও থেকে কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকায়, জামালখান-কাজিরদেউরি এলাকায়, আগ্রাবাদ, শুলকবহর, বাগমনিরাম, ষোলশহর, বায়েজিদসহ নগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে পাইপলাইন বসানোর কাজ করেছে।
এসব এলাকা ছাড়াও আগামী ২০২২ সাল পর্যন্ত নগরে বিভিন্ন সড়কে খোঁড়াখুঁড়ি করা হবে বলে জানিয়েছেন ওয়াসা কর্র্তৃপক্ষ। চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল্লাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, নির্দিষ্ট একটি পরিকল্পনা নিয়ে চট্টগ্রাম ওয়াসা সামনের দিকে এগোচ্ছে। নগরজুড়ে সুপেয় পানি সরবরাহে নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প’ ফেইস-১ ও ২-সহ বর্তমানে ওয়াসা পাঁচটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে তিনটি প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। বাকি দুটি প্রকল্পে নগরে প্রায় ৭৫০ কিলোমিটার নতুন পাইপলাইন বসানো হবে। এজন্য আগামী ২০২২ সাল পর্যন্ত ক্রমান্বয়ে নগরজুড়ে খোঁড়াখুঁড়ি চলবে।
ওয়াসার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি করে পাইপলাইন বসানোর পর ঠিকমতো মাটি ভরাট না করেই চলে যাচ্ছে। এতে জনদুর্ভোগ আরও বাড়ছে। এ বিষয়ে ওয়াসার এমডি বলেন, নগরের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক কাটার ক্ষতিপূরণ বাবদ এ সপ্তাহে সিটি মেয়রকে ১০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।
চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ওয়াসার পাইপলাইন বসানোর কাজ তো করতে হবে। এসব প্রকল্প একনেকে অনুমোদন হওয়ার পর বাস্তবায়িত হচ্ছে। তবে নগরবাসীর দুর্ভোগের বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে ওয়াসাকে। পরিকল্পিতভাবে পাইপলাইন বসানোর কাজ শেষ করতে হবে। সড়ক খোঁড়াখুঁড়ির কারণে যদি নগরবাসীর ভোগান্তি ক্রমেই বাড়তে থাকে, তাহলে ওয়াসাকে বিকল্পভাবে কাজ শেষ করার পরিকল্পনা নিতে হবে। নগরবাসীর দুর্ভোগ সহনীয় পর্যায়ে রাখতে প্রয়োজনে দিনের পরিবর্তে রাতে পাইপলাইন বসানোর কাজ করাতে হবে।
চসিকের নতুন রাস্তা কেটে ওয়াসার পাইপলাইন বসানোর বিষয়ে জানতে চাইলে সিটি মেয়র বলেন, কাজের পরিকল্পনা জানাতে এরই মধ্যে ওয়াসাকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। যেকোনো রাস্তা কাটার আগে অবশ্যই চসিকের মতামত নিতে হবে। এছাড়াও এই বিষয়ে ওয়াসার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার জন্য চসিকের প্রকৌশলী বিভাগকেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।