কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ না পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রধান শিক্ষককে দা দিয়ে কুপিয়েছে সহকারী শিক্ষক এমরান হোসেন বাবলা (৪২)।
এ ঘটনায় প্রদান শিক্ষক তরিকুল ইসলাম রাসেল (৪২) গুরুতর আহত হন।
বর্তমানে তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনাটি শনিবার দুপুরে উপজেলার ছিট পাইকেরছড়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাদে ঘটে।
প্রধান শিক্ষকের চাচাত ভাই সেলিম জানান, ছিট পাইকেরছড়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ নিয়ে তরিকুল ইসলাম রাসেলের সঙ্গে এমরান হোসেন বাবলার দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এর জেরে শনিবার দুপুরে বাবলা প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয়ের ছাদে ডেকে নিয়ে অতর্কিতে হামলা চালায়।
তিনি বলেন, তার মাথায় দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এতে তরিকুল ইসলামের মাথায় চারটি গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়। দায়ের কোপ থেকে মাথা বাঁচাতে হাত দিয়ে দা ধরার চেষ্টা করলে তার ডান হাতের অনামিকা ও কনিষ্ঠা আঙুল এবং বাম হাতের তর্জনী ও মধ্যমা আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
‘প্রধান শিক্ষকের আর্তচিৎকারে এলাকাবাসী এসে এমরান হোসেন বাবলাকে পুলিশে সোপর্দ করে’।
এ সময় বিদ্যালয়টি রমজান ও ঈদের ছুটির কারণে বন্ধ ছিল। অফিশিয়াল কাজে তারা বিদ্যালয়ে এসেছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
তরিকুল ইসলাম রাসেল ছিট পাইকেরছড়া গ্রামের মৃত আব্দুল কাদের সরকারের ছেলে। হামলাকারী এমরান হোসেন বাবলা নাগেশ্বরী উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের হাতিরভিটা গ্রামের মৃত সেকেন্দার মোল্লার ছেলে।
এ ব্যাপারে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. নাছিম তানভীর জানান, তরিকুল ইসলাম রাসেলের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ ইমতিয়াজ কবির জানান, হামলাকারীকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আহত প্রধান শিক্ষকের বড় ভাই আলী আজম বাদী হয়ে মামলা করেছেন।