জঙ্গীদমনে সমাজের সর্বস্তরে সচেতন হওয়ার আহ্বান: ঘাদানিক

জঙ্গীদমনের পাশাপাশি জঙ্গীবাদকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিকভাবে মোকাবেলা করতে হলে সরকার ও নাগরিক সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি।

রবিবার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে 'বাংলাদেশে আইএস-এর নতুন হুমকি ও কার্যক্রম, সরকার ও নাগরিক সমাজের করণীয়' শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান তারা।

ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নির্বাহী সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, ২০১৬ সালের জুলাইয়ে ঢাকার গুলশানের হলি আর্টিজান ক্যাফের নৃশংস হত্যাকান্ডের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জঙ্গীদমনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য প্রদর্শন করেছে। আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গত কয়েক বছরে জঙ্গীদের বহু আস্তানা ধ্বংস করেছে, তাদের বহু হামলার চক্রান্ত ও উদ্যোগ নস্যাৎ করে দিয়েছে, বহু জঙ্গী ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছে এবং অনেকে গ্রেপ্তার হয়েছে।

শাহরিয়ার কবির আরও বলেন, ‘আমরা দেখছি সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ইস্যুতে ব্লগার ও সাংবাদিকদের ৫৭ ধারায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। তবে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ও ওয়াজ মাহফিলে মওদুদীপন্থীরা ধর্মের নামে সাম্প্রদায়িকতা ও ঘৃণা ছড়াচ্ছে। তারপরও তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। এতে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ বিস্তারের পথ আরও মসৃণ হচ্ছে।’

ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সহসভাপতি মাহবুবুর রশীদ বলেন, ‘আমরা দেখেছি সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ কত ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে। নাসিরনগরের রসরাজ দাসকে আজ মিথ্যা মামলা নিয়ে তিন বছর লড়াই করতে হচ্ছে, রামুতে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে বিদ্বেষ ছড়ানো হয়েছে। এসব নিয়ন্ত্রণে আনতে এখনই পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।’

বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরি মানিক বলেন, বলেন, ‘যারা ধর্মীয় বক্তব্যের আড়ালে ঘৃণা, বিদ্বেষ ও সাম্প্রয়াদিকতা ছড়ায়, তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ও ৫৭ ধারায় বিধান রয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে এদের এখনো শাস্তির আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না। আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি এসব নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, তবে হাইকোর্টে রুল জারি করে এদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও অংশ নেন, সংগঠনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, সহ-সভাপতি শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, শহীদজায়া সালমা হক এবং সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল প্রমুখ।