বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দাবি করে বলেছেন, সরকারের ঘোষিত প্রবৃদ্ধির হার সঠিক নয়। সরকার সবসময় বলে তারা উন্নয়ন করছে। যে উন্নয়ন তারা করছেন বলে বলছেন, সেই উন্নয়ন কী সত্যিকার অর্থে উন্নয়ন হচ্ছে?- সে প্রশ্নও রাখেন তিনি।
রোববার বিজয় নগরের একটি হোটেলে ২০ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ লেবার পার্টির উদ্যোগে আয়োজিত এক ইফতার পার্টিতে তিনি এ প্রশ্ন রাখেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার যে দাবি করছে দেশের অর্থনীতিবিদরা তা মানছেন না। তারা পরিস্কার করে বলতে শুরু করেছেন যে, বাংলাদেশে যে প্রবৃদ্ধি দেখানো হচ্ছে, সেই প্রবৃদ্ধির হার সঠিক নয়। এটাকে শুধুমাত্র কতগুলো অংকের হিসাব মিলিয়ে প্রবৃদ্ধি দেখানো হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, প্রবৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ১৩।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, বর্তমান সরকার শুধু মাত্র বন্দুক-পিস্তলের জোরে, গায়ের জোরে ক্ষমতা দখল করে আছে। গণতন্ত্রের নাম নিয়ে, নির্বাচনের নাম নিয়ে তারা সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক, ফ্যাসিবাদী, একদলীয় একটা সরকার চাপিয়ে দিচ্ছে। এই সংকট আজকের নয়, এটি শুরু হয়ে যেদিন ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে দিয়ে অর্থাৎ কেয়ার টেকার সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দিয়ে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের প্রবর্তন করেছে সেদিন থেকে সংকট শুরু হয়েছে। আজকে গোটা জাতি অস্থিতিশীল ও নৈরাজ্যের মধ্যে পড়েছে।
কারাবন্দি খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ তিনি বলেন, শুধু গণতন্ত্রের জন্য খালেদা জিয়া আজকে কারাগারে। উনি যদি গণতন্ত্র না চাইতেন, উনি যদি অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে থাকতেন, আপোষ করতেন তাহলে কিন্তু তাকে আজকে কারাগারে থাকতে হতো না। তিনি আপোষ করেননি অন্যায়ের সঙ্গে, একনায়কের সঙ্গে। ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আপোষ করেননি বলেই তিনি কারাগারে রয়েছেন। তাকে অন্যায়ভাবে বিচার বিভাগকে প্রভাবিত করে জামিনের অধিকার থেকে তাকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। যানজট ও সড়ক-মহাসড়কের অব্যবস্থাপনার জন্য ‘জনদুর্ভোগ’ বাড়ছে বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।
তিনি বলেন, সর্বক্ষেত্রে লুটপাট চলছে। ব্যাংকিং ব্যবস্থা ধসে পড়ে গেছে। কয়েকদিন আগে দেখলেন রুপপুর আনবিক কেন্দ্র বালিশ দুর্ণীতি। আরেকটা খবর আসছে, সাতক্ষীরাতে মেডিকেল কলেজে ১৭ কোটি টাকা কেনাকাটা হয়েছে, তার মধ্যে ১৫ কোটি টাকার কোনো হিসাব নাই। কার কাছে কে প্রশ্ন করবে, কে জবাব দেবে কোনো মা-বাবা কেউ নেই। কোথাও জবাবদিহিতা নেই। সংসদে এ নিয়ে গত ১০ বছরে কোনো আলাপ-আলোচনা হয়েছে বলে কারো জানা নেই। এই অবস্থার মধ্যে দেশ চলতে পারে না।
লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের ইফতার পার্টিতে অংশ নেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য আমানউল্লাহ আমান ও হাবিবুর রহমান হাবিব, গোলাম মাওলা রনি, জামায়াতে ইসলামীর মজিবুর রহমান, আবদুল হালিম, খেলাফত মজলিশে অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইসহাক, লেবার পার্টির ফারুক রহমান, আমিনুল ইসলাম রাজু, এসএম ইউসুফ আলী, নুরুল ইসলাম সিয়াম, হুমায়ুন কবীর, খন্দকার মিরাজুল ইসলাম, তরিকুল ইসলাম সাদী প্রমূখ।