কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের ২৮ কিলোমিটারের মধ্যে প্রায় সাতশ বৈদ্যুতিক খুঁটি রয়েছে। রাস্তার মাঝখানে বিদ্যমান সচল বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণ না করায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন ও যাত্রী সাধারণ। এদিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মহাসড়কের ওপর থেকে খুঁটি সরানোর ব্যাপারে উচ্চ আদালতের নির্দেশও মানা হয়নি।
কুষ্টিয়ার চৌড়হাস থেকে যথাক্রমে লাহিনী, আলাউদ্দিন নগর, কুমারখালী, জিলাপিতলা ও খোকসা পর্যন্ত শতাধিক বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণের দাবি স্থানীয়দের। জেলার কুমারখালী এলাকার স্কুল শিক্ষক কে এম আর শাহীন বলেন, এসব খুঁটি এখনো রাস্তার মাঝখানে থাকায় চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন ও যাত্রী সাধারণ। বড় কোনো দুর্ঘটনার দায় নেবেন কে?
সড়ক ও জনপথ (সওজ) কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম জানান, নির্মাণাধীন সড়কের ২৮ কিলোমিটারের মধ্যে দুটি সংস্থার প্রায় ৭ শতাধিক বৈদ্যুতিক খুঁটির অধিকাংশ পড়েছে রাস্তার মাঝখানে। বিষয়টি সুরাহার জন্য শুরু থেকেই সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বিত সিদ্ধান্তও হয়েছে। কাজের অনুকূলে প্রাক্কলন ব্যয়ের সমুদয় আর্থিক বিষয়ও সুরাহা হয়েছে।
এদিকে ২০১৬ সালে আঞ্চলিক এই মহাসড়কের সম্প্রসারণ কাজ শুরু হয়। এরপর তিন বছর পেরিয়ে গেলেও রাস্তার মাঝখান থেকে খুঁটি সরানো হয়নি। এ নিয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের ১ তারিখে হাইকোর্ট ওই সব খুঁটি সরাতে এক মাসের সময় বেঁধে দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়।
সড়ক বিভাগ বলছে, তিন বছর আগে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু রাস্তার মাঝখানে এসব খুঁটি এখনো রয়ে গেছে। রাস্তার মধ্যে বৈদ্যুতিক খুঁটি থাকায় যানবাহন চলাচলে বিঘœ ঘটার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে।
এরই মধ্যে রাস্তার অধিকাংশ জায়গায় বিটুমিন সারফেসের কাজও সম্পন্ন হয়েছে। ব্যস্ততম এই সড়কে যানবাহনও চলছে, কিন্তু বেশ কিছু জায়গায় রাস্তার মাঝখানে বৈদ্যুতিক খুঁটি এ পথে চলাচলকারী যাত্রী ও চালকদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুর্ঘটনার শঙ্কা নিয়ে তারা চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন।
ওয়েস্ট জোন পাওয়ায় ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তার মধ্যে বৈদ্যুতিক খুঁটি যে সময় মারাত্মক জীবনঝুঁকির কারণ হতে পারে এমনবিষয় বিবেচনায় নিয়ে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ি সড়কের সব ঝুঁকিপূর্ণ খুঁটি অপসারণ পূর্বক নিরাপদ দূরত্বে স্থাপনের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপমহাব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান বলেন, নির্মাণাধীন এই আঞ্চলিক মহাসড়কে প্রায় সাড়ে ছয় শ বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণের কাজ চলছে। এর মধ্যে রাস্তার মাঝখানে অতি ঝুঁকিপূর্ণ ৬০ থেকে ৭০টি খুঁটি অপসারণ করা হয়েছে। এখনো আরও বেশ কিছু খুঁটি রাস্তার মাঝখানে রয়ে গেছে। সেগুলোও দ্রুততার সঙ্গে সরিয়ে নেওয়া হবে। কুষ্টিয়া আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু সাইদ বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কের মাঝখানে বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণে হাইকোর্টের বেঁধে দেওয়া এক মাস সময় অতিবাহিত হলেও কুষ্টিয়া-রাজবাড়উ মহাসড়কের মাঝখানে এখনো অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এসব খুঁটি অপসারিত হয়নি। উচ্চ আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করা হলে সেটা অবশ্যই আদালত অবমাননার শামিল এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।