সরকারিভাবে ৫০ লাখ টন ধান কেনার দাবি

ধানের যৌক্তিক মূল্য না পাওয়া কৃষকদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকারিভাবে ৫০ লাখ টন ধান কেনার দাবি করেছেন বিশিষ্টজনেরা। পাশাপাশি বাজেটে কৃষি খাতে ২৫ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি বরাদ্দেরও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘ধানসহ কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য, চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে বক্তারা এমন দাবি জানান।

সংলাপে খাদ্য অধিকার বাংলাদেশের ভাইস চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহীম খালেদ বলেন, ‘পশ্চিমা উন্নত দেশগুলোতে সরকার খাদ্য উৎপাদনে ব্যাপক ভর্তুকি দেয়। আমাদের সরকারও ভর্তুকি দেয়, তবে মধ্যস্বত্বভোগীদের জন্য এর সুফল কৃষকরা পান না।’

তিনি বলেন, এর একটা বড় কারণ হলো কৃষকরা এ দেশে অসংগঠিত। তাদের সংগঠিত হয়ে রাজনীতিতে আসতে হবে। তারা রাজনীতিতে প্রবেশ করতে পারলে বাজার-অর্থনীতির ব্যবস্থা কৃষকদের হাতে থাকবে।

সাবেক কৃষিসচিব আনোয়ার ফারুক বলেন, এ মুহূর্তে কৃষককে তিন-চার মাসের জন্য সুদবিহীন ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এ ছাড়া আমাদের স্থানভেদে বিকল্প কৃষি উৎপাদনের দিকে মনোযোগী হতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে ড. কাজী খলীকুজ্জমান বলেন, ‘উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য কৃষির যান্ত্রিকীকরণের পাশাপাশি কৃষকের কথাও আমাদের চিন্তা করতে হবে। ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হলে স্থায়ী মূল্য কমিশন গঠন করা দরকার। আরও দরকার শক্তিশালী কৃষক সংগঠন।’

প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে সাহানোয়ার সাঈদ শাহীন সুপারিশ করেন, ‘দেশে ভূমিহীন কৃষকের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। কৃষককে বাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে না পারা আমাদের একটি বড় ব্যর্থতা। এ ছাড়া সরকারি শস্য মজুতের পরিমাণ আগামী দুই বছরের মধ্যে ৬০ লাখ টনে উন্নীত করার পাশাপাশি কমিউনিটি-ভিত্তিক শস্যভাণ্ডার গড়ে তুলতে হবে। কৃষিবান্ধব যৌক্তিক আমদানি নীতি গ্রহণ করতে হবে।’