গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) ১৪ জন শিক্ষার্থীকে আন্দোলনে অংশগ্রহণের জন্য কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে কোন আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে এ নোটিশ প্রদান করা হয়েছে তা উল্লেখ করা হয়নি।
গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. নূরউদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়- ‘অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্ট করার অভিপ্রায়ে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া সরকার ও প্রশাসন বিরোধী প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন বহন ও উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান করা এবং অত্যুৎসাহী হয়ে অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয় কোনো আন্দোলন করার আগেই আন্দোলনের সঙ্গে আপনাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে যা বিশ্ববিদ্যালয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী ও একটি গর্হিত কাজ’।
নোটিশে জারির তারিখ থেকে ৭ কার্য দিবসের মধ্যে লিখিতভাবে তাদের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
ওই শিক্ষার্থীরা হলেন- সমাজবিজ্ঞান বিভাগের দিগন্ত লস্কর (৩য় বর্ষ), নিউটন মজুমদার (স্নাতকোত্তর), মেহেদী হাসান (৩য় বর্ষ); আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের নাজমুল হুদা (৩য় বর্ষ), রথীন্দ্র নাথ বাপ্পী (৩য় বর্ষ), শিবলী সাদিক (৩য় বর্ষ), সিরাজুল ইসলাম (৪র্থ বর্ষ); ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের ইসমাইল হোসেন (৩য় বর্ষ); সিকদার মাহবুব (৩য় বর্ষ); লোকপ্রশাসন বিভাগের মিথুন হোসাইন (৩য় বর্ষ); সৌরভ সমাদ্দার (২য় বর্ষ); ইংরেজি বিভাগের বুলবুল আহমেদ (৩য় বর্ষ); আইন বিভাগের আবদুল্লাহ কাফি (৩য় বর্ষ); পরিসংখ্যান বিভাগের রিসালাত আহমেদ (২য় বর্ষ)।
নোটিশপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী রথীন্দ্র নাথ বাপ্পী জানান, ‘আমরা কিছুদিন আগে ধানের ন্যায্য মূল্যের দাবিতে মানববন্ধন করি। প্রশাসন সম্ভবত ওই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে এ নোটিশ দিয়েছে। তবে উক্ত মানববন্ধনে আমরা সরকার ও প্রশাসন বিরোধী কোন ধরনের বক্তব্য, প্ল্যাকার্ড এবং ফেস্টুন ব্যবহার করি নি। শুধুমাত্র কৃষকের অধিকারের কথা বলেছি এবং সরকারের নিকট ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছি।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কোন আন্দোলনের জন্য এ নোটিশ দেয়া হয়েছে তা তিনি জানেন না। তিনি শৃঙ্খলা বোর্ডের নির্দেশ অনুযায়ী নোটিশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ।
শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. আশিকুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকার বিরোধী আন্দোলনের জন্য তাদের এ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া তাঁরা আন্দোলনের পূর্বে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোন অনুমতি নেয়নি।’