রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন প্রখ্যাত নাট্যকার, নির্দেশক ও অভিনেতা অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদ। তার অবস্থা সংকটাপন্ন। চিকিৎসক আশা ছেড়ে দিয়েছেন, এখন অলৌকিকভাবে বেঁচে ওঠার অপেক্ষায় তার স্বজনেরা। দেশ রূপান্তরকে এমনটাই জানিয়েছেন নাট্যকার রতন সিদ্দিকী।
শনিবার রাত পৌনে ৮টায় হাসপাতাল থেকে মোবাইল ফোনে রতন সিদ্দিকী বলেন, ‘স্যারের অবস্থা ভালো নেই। শরীর অক্সিজেন পাচ্ছে না। মস্তিষ্কে পানি জমে গেছে। এ পরিস্থিতিতে অলৌকিক কিছু না ঘটলে তাঁকে বাঁচানো যাবে না বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। আমরা এখন হাসপাতালেই আছি। স্যারের ছেলে সেজান মাহমুদ তিতাস যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে এসেছে। তিতাস নিজেও চিকিৎসক।’
নব্বইয়ের দশকে একবার সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন মমতাজউদদীন আহমদ। এ কথা উল্লেখ করে রতন সিদ্দিকী বলেন, ‘তখনও স্যার সবার ভালোবাসা-দোয়ায় বেঁচে ফিরেছিলেন। এবারও তিনি ফিরবেন বলেই আমাদের আশা।’
অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদ বেশ কয়েক বছর ধরেই শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। মাঝে একাধিকবার তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল।
বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত নাট্যকার, নির্দেশক, অভিনেতা ও ভাষাসৈনিক অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদ স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ। এক অঙ্কের নাটক লেখায় বিশেষ পারদর্শিতার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। ১৯৯৭ সালে নাট্যকার হিসেবে একুশে পদকে ভূষিত হন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি।
এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি কলেজে ৩২ বছর বাংলা ভাষা সাহিত্য এবং বাংলা ও ইউরোপীয় নাট্য বিষয়ে শিক্ষকতা করেন। তিনি ১৯৭৬-৭৮ সাল পর্যন্ত জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি প্রণয়নে একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেন। ১৯৭৭-৮০ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক ছিলেন।