‘দেশে ফেরা’ মানুষের চাপ এখনো পড়তে শুরু করেনি সদরঘাটে

রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ঈদ সামনে রেখে ‘দেশে ফেরা’ মানুষের চাপ এখনো পড়তে শুরু করেনি। শনিবার সরকারি ছুটির দিন হলেও গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে যাওয়ার জন্য যাত্রীদের খুব একটা ভিড় দেখা যায়নি।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সদরঘাটে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বলছেন, ঈদে ঘরমুখী যাত্রীদের খুব একটা চাপ আজ নেই। তবে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় যাত্রীদের চাপ বাড়ছে। আগামীকাল থেকে ঘরমুখী যাত্রীদের চাপ বাড়বে বলে তাদের ধারণা।

বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তা হ‌ুমায়ূন বলেন, ঢাকার সদরঘাট থেকে লঞ্চগুলো ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, চাঁদপুর ও শরীয়তপুরের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এর বাইরে মুন্সিগঞ্জেও যাত্রীবাহী লঞ্চ আছে। আগের থেকে এখনকার লঞ্চগুলো আয়তনে বড়, সুযোগ-সুবিধাও বেশি।

নৌপরিবহন পরিদর্শক হুমায়ুন কবীর বলেন, যাত্রীরা যাতে কোনোভাবে লঞ্চের ছাদে না চড়তে পারে, সে ব্যাপারে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে।

এবারের ঈদে ঘরে ফেরা যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে নানা প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

সদরঘাট নৌ টার্মিনালে দেখা যায়, অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে লঞ্চে না যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। টার্মিনালজুড়ে যাত্রীদের সতর্কতা করতে নানান প্রচারণা চালাচ্ছে বিভিন্ন সংস্থা।

শনিবার বিকেলে সদরঘাটের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন করেছেন মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়।

পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সদরঘাটে আসতে রাস্তায় কিছু জট আছে। তবে সদরঘাটে কোনো ধরনের ভিড় নাই।”

সদরঘাট দিয়ে যাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাতায়াতে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত)  মওদুত হাওলাদার। ২৮২ জন পুলিশ সদস্য পালা করে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করছেন।

চল্লিশটির বেশি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা দিয়ে পুরো এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

১২ জুন পর্যন্ত এই বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে বলে জানিয়েছেন মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়।

পুলিশ ছাড়াও, নৌপুলিশ, র‌্যাব, কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস ও বিপুলসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক রয়েছে নিরাপত্তার দায়িত্বে।