ফিরে দেখা বাংলাদেশ-দ. আফ্রিকা ২০ ওয়ানডে

৩ অক্টোবর ২০০২, পচেফস্ট্রুম

বাংলাদেশের প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকা সফর, প্রথম ওয়ানডে। টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় স্বাগতিকরা। গিবসের ১৫৩ রানের ইনিংসে ৮ উইকেটে ৩০১ রান করে প্রোটিয়ারা। তালহা জুবায়ের ৪ ও তাপস বৈশ্য নেন ৩ উইকেট। কিন্তু ব্যাটিংয়ে অসহায় আত্মসমর্পণ করে বাংলাদেশ, ১৩৩ রানে অলআউট। পরাজয় ১৬৮ রানের।

অক্টোবর ২০০২, বেনোনি

সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা টসে জিতে ফিল্ডিং নেয়। ব্যর্থতার ঘেরাটোপ থেকে বেরিয়ে আসতে ব্যর্থ বাংলাদেশ অলআউট মাত্র ৯ উইকেটে ১৫৪ রানে। বৈশ্য’র ব্যাট থেকে আসে সর্বোচ্চ ৩৫। জবাবে মাত্র ২০ ওভার নেয় প্রোটিয়ারা লক্ষ্যে পৌঁছাতে। গিবস ম্যাচ সেরা ৯৭ রান করে।

৯ অক্টোবর ২০০২, কিম্বারলি

নিয়মরক্ষার শেষ ম্যাচে এসে প্রথম টস জয় বাংলাদেশের। ব্যাটিং নিয়েও সেই ব্যর্থতা, ১৫১ রানে অলআউট। হাবিবুল বাশার করেন সর্বোচ্চ ৫১। ২৫.২ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়েই লক্ষ্যে পৌঁছায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা শন পোলক। সিরিজ সেরা গিবস।

২২ ফেব্রুয়ারি ২০০৩, ব্লুমফন্টেইন

বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথম দেখা দু’দলের। বিবর্ণ বাংলাদেশ টসে হেরে আগে ব্যাটিং করে। খালেদ মাসুদ ও খালেদ মাহমুদের দুটো ছোট ইনিংসে কোনো প্রকারে ৩৫ ওভার ১০৮ রান ওঠে দলের। জবাবে মাত্র ১২ ওভারে গিবস আর কারস্টেন ম্যাচ ছিনিয়ে নেন। মাখায়া এনটিনি ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন।

১৪ এপ্রিল ২০০৩, ঢাকা

বৈশাখের প্রথম দিন আফ্রিকা বাংলাদেশ সফরের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামে। টসে জিতে আফ্রিকা ব্যাটিংয়ে। ৩ জন ব্যাটসম্যানের ফিফটিতে রান ওঠে ৩ উইকেটে ২৯৪। বোলাররা কোনো প্রতিরোধ না দেখাতে পারলেও এবারই প্রথম ব্যাটসম্যানরা কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। ৮৩ রানে হেরে যাওয়া ম্যাচে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২১১। দলের একমাত্র ফিফটি করে আশরাফুল ম্যাচসেরা।

১৭ এপ্রিল ২০০৩, ঢাকা

সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে আফ্রিকার অধিনায়ক টসে জিতে ব্যাটিং নেন। দলের পক্ষে রুডলফের সর্বোচ্চ ৮১ এর কল্যাণে ২৬১ রনের সংগ্রহ পায় আফ্রিকা। জবাবে অলক কাপালীর ৭১ রান সত্ত্বেও বাংলাদেশ মাত্র ১৬৮ রান জমা করে স্কোরবোর্ডে। পোলক এবং অ্যান্ড্রু হলের ৩ উইকেট আফ্রিকাকে সহজ জয় এনে দেয়। পোলক হন ম্যাচসেরা।

১২ সেপ্টেম্বর ২০০৪, এজবাস্টন

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ম্যাচে বাংলাদেশ টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু ৯৩ রানেই গুটিয়ে যায়। সর্বোচ্চ ৪০ রান করেন নাফিস ইকবাল। ওই রান করতে ১৮ ওভার সময় নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। ৩ উইকেট নিয়ে ল্যাঙ্গাভেল্ট হন ম্যাচসেরা।

০৭ এপ্রিল ২০০৭, প্রভিডেন্স পার্ক

বাংলাদেশকে এক ধাপ এগিয়ে নেওয়া ২০০৭ বিশ্বকাপে, বাংলাদেশ ভারতকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছায়। কোয়ার্টারে প্রভিডেন্স পার্কে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হাবিবুল বাশারের দল। চমকের সেই বিশ্বকাপে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে ক্রিকেটবিশ্বকে চমকে দেয়। আফ্রিকার অধিনায়ক স্মিথ টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। আশরাফুলের ৮৭ রানের ওপর ভর করে ২৫১ রান তোলে বাংলাদেশ। প্রোটিয়াদের ১৮৪ রানে গুটিয়ে দিয়ে ৬৭ রানের ঐতিহাসিক জয় পায় বাংলাদেশ।

৯ মে ২০০৮, চট্টগ্রাম

বাংলাদেশ সফরে এসে বিশ্বকাপের হারের প্রতিশোধ নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। আগে ব্যাট করে মাত্র ১৭৮ রান তুলতে পারে বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে তামিম করেন সর্বোচ্চ ৮২। অধিনায়কোচিত সেঞ্চুরি তুলে গ্রায়েম স্মিথ দলকে এনে দেন ৯ উইকেটের জয়।

১২ মে ২০০৮, মিরপুর

অধিনায়ক আশরাফুল টসে জিতে ব্যাটিং নেন। সাকিব আর রকিবুলের ফিফটিতে ১৭৩ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে ৪৮ ওভারে এসে জয়ের বন্দরে পৌঁছে আফ্রিকা। আন্দ্রে নেল ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন।

১৪ মে ২০০৮, মিরপুর

মিরপুরের পরের ম্যাচেও বাংলাদেশ টসে জিতে ব্যাটিং নেয়। এ ম্যাচে আরও ব্যর্থ বাংলাদেশ করে ১৪৩। এই লক্ষ্য ৩৪ ওভারে, ৭ উইকেট হাতে নিয়ে টপকে যায় আফ্রিকা। অ্যালবি মরকেল ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা এবং গ্রায়েম স্মিথ হোন সিরিজসেরা।

৭ নভেম্বর ২০০৮, পচেফস্ট্রুম

৬ বছর পর আবার দক্ষিণ আফ্রিকা সফর বাংলাদেশের। প্রথম ম্যাচে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে স্বাগতিকরা করে ২৮৪ রান। জবাবে আশরাফুল ও সাকিবের ফিফটিতে ২২২ তুলতে পারে বাংলাদেশ। ডেল স্টেইন ১৬ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন।

৯ নভেম্বর ২০০৮, বেনোনি

টসে জিতে ফিল্ডিংয়ে নেমে বাংলাদেশ রানের পাহাড়ে চাপা পড়ে। দক্ষিণ আফ্রিকার ৩৫৮ রানের ইনিংসে ব্যক্তি গত সর্বোচ্চ হাশিম আমলার ১৪০। জবাবে বাংলাদেশ ২৩০ রানে অলআউট হয়ে যায়। কেউই ফিফটি করতে পারেননি।

১২ নভেম্বর ২০০৮, ইস্ট লন্ডন

আফ্রিকার ইস্ট লন্ডনের ম্যাচটি বৃষ্টিতে মাঠেই গড়াতে পারেনি।

১৯ মার্চ ২০১১, মিরপুর

বিশ্বকাপে তৃতীয়বার মুখোমুখি হওয়া ম্যাচে বিশাল ব্যবধানে হারে বাংলাদেশ। দক্ষিণ আফ্রিকা টসে জিতে বাংলাদেশকে ২৮৫ রানের টার্গেট দেয়। ৭৮ রানে গুটিয়ে যাওয়া বাংলাদেশ হারে ২০৬ রানের বিশাল ব্যবধানে।

১০ জুলাই ২০১৫, মিরপুর

মাশরাফীর হাত ধরে বদলে যাওয়া বাংলাদেশের আতিথ্য নিতে দক্ষিণ আফ্রিকা বাংলাদেশ সফর করে। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১৬০ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। কাগিসো রাবাদা অভিষেকেই ৬ উইকেট তুলে নেন। ২ উইকেট হারিয়েই লক্ষ্যে পৌঁছায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

১২ জুলাই ২০১৫, মিরপুর

বাজে পরাজয়ের দুদিনের মধ্যে ঘুরে দাঁড়ায় স্বাগতিকরা। মোস্তাফিজ এবং নাসিরের বোলিং তোপে মাত্র ১৬২ রানে অলআউট দক্ষিণ আফ্রিকা। সৌম্য-মাহমুদুল্লাহ’র ১৩৫ রানের জুটিতে ৭ উইকেটের সহজ জয় বাংলাদেশ। ম্যাচসেরা হন সৌম্য।

১৫ জুলাই ২০১৫, চট্টগ্রাম

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম ও একমাত্র সিরিজ জয় নিশ্চিতের ম্যাচ। টসে জিতে আগে ব্যাট করে দক্ষিণ আফ্রিকা। মোস্তাফিজ, সাকিক-রুবেলের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে মাত্র ১৬৮ রানে বাক্সবন্দি প্রোটিয়ারা। বিধ্বংসী সৌম্য এ ম্যাচেও জয়ের রূপকার। তামিমের সঙ্গে ১৫৪ রানের জুটি গড়ে দলকে ৯ উইকেটের জয় এনে দেন সৌম্য। অপরাজিত ৯০ রানে হন ম্যাচসেরা। সিরিজেরও সেরা হন তিনি।

১৫ অক্টোবর ২০১৭, কিম্বারলি

তৃতীয় বার দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের প্রথম ম্যাচে মুশফিকুর রহিমের সেঞ্চুরিতে ফলে ২৭৮ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে বাংলাদেশ। কিন্তু ডি ককের ১৬৮ রানে সেই স্কোরও রক্ষা পায়নি। দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানরাই ম্যাচ জিতিয়ে দেন স্বাগতিকদের।

১৮ অক্টোবর ২০১৭, পার্ল

পরের ম্যাচে ডি ভিলিয়ার্সের আগুনে পোড়ে বাংলাদেশ। তার ১৭৬ রানে ৩৫৪ রানের টার্গেট দাঁড়ায় বাংলাদেশের সামনে। জবাবটা শেষ হয় ২৪৯ রানে।

২২ অক্টোবর ২০১৭, ইস্ট লন্ডন

শেষ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা আরও বিধ্বংসী। করে ৩৬৯ রান। আশ্চর্যজনক হলো এই স্কোরে কোনো সেঞ্চুরি নেই, সর্বোচ্চ ৯১ ডু প্লেসির। জবাবে বাংলাদেশ করে ১৬৯। সাকিব সর্বোচ্চ ৬৩। ডু প্লেসি হন ম্যাচ সেরা।