মসজিদেই তারাবি পড়ছেন এই ভারতীয় মুসলিম নারীরা

নারীদের মসজিদে নামাজ পড়তে কোনো বাধা নেই। তবে ভারতীয় উপমহাদেশের চিত্রটা কিছু ভিন্ন। এখানে মসজিদে নারীদের নামাজ পড়ায় নিরুৎসাহিত করা হয়। তবে এই বাধার বৃত্ত ভাঙছে। সচেতনতা বাড়ছে। মসজিদে যেতে শুরু করেছে এখনকার মুসলিমরাও।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুরের চাকুলিয়ার নারীরা এখন মসজিদেই তারাবির নামাজ পড়ছেন।

আনন্দবাজার জানায়, দিনভর কাজের মধ্যে যেটুকু ফুরসত মিলত, ঘরেই নামাজ পড়ে নিতেন চাকুলিয়ার ইশাগঞ্জের নারীরা। কারণ, মসজিদে যাওয়া নিয়ে ছিল নানা বিধিনিষেধ।

তবে এবার এলাকার জামে মসজিদ কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, দিনভর রোজা রাখার পরে মসজিদেই তারাবির নামাজ পড়তে পারবেন নারীরা।

কিছুদিন আগেই কলকাতার দুটি মসজিদ কর্তৃপক্ষ মহিলাদের মসজিদে নামাজ পড়া অনুমোদন করেছে। রাজ্যের রাজধানী শহর থেকে পাঁচশ’ কিলোমিটার দূরের এই জনপদেও এমন সিদ্ধান্তে খুশি স্থানীয় নারীরা।

এই সিদ্ধান্তের পেছনে কতটা লড়াই আছে, সেটা ধরা পড়ে ফরিদা বিবি, আসমা খাতুন, ইয়াসমিন খাতুনদের কথায়। তারা জানালেন, প্রথমে আশপাশের মহিলাদের এনিয়ে সচেতন করা হয়। তারপর যুদ্ধটা শুরু হয় বাড়ির ভেতর থেকে। বাড়ির ছেলেদের বিষয়টি বোঝানো হয়। পরে সেই ছেলেরাই বাড়ির মেয়েদের দাবির কথা মসজিদ কমিটির কাছে জানান।

এর মধ্যে গত বছর থেকেই মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ার প্রবণতা শুরু হয়েছে মেয়েদের। তাতে বাধাও এসেছিল। কিন্তু অনেকের ক্ষেত্রে বাড়ির ছেলেরা পাশে থাকায় লড়াইটা চালানো সহজ হয়ে পড়ে।

ফরিদা-আসমারা আরও জানান, আগে নারীরা মসজিদে আসতেন বছরে একবার, শুধু ঈদের নামাজ পড়তে। এবার থেকে সেই ছবিটা বদলে গেল।

ফরিদা বলেন, “প্রথম বছর অনেকে বাধা দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন রোজই বাড়ছে নামাজ পড়তে আসা মহিলাদের সংখ্যা। গত বছর ১৫ জনের পর এখন সংখ্যাটা প্রায় ২৫।”

তিনি বলেন, “আরবে অনেক মুসলিম দেশে পুরুষদের সঙ্গে নারীরা নামাজ পড়েন। দেরিতে হলেও সচেতনতা বাড়ছে।”

মসজিদের ইমাম মহিবউল হক বলেন, “শরিয়ত অনুযায়ী নারীরা চাইলে মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়তেই পারেন। তবে সেখানে তাদের নামাজ পড়ার আলাদা ব্যবস্থা করতে হবে, যা এই এখানে করা হয়েছে।”