চাঁদ দেখার সিদ্ধান্ত বাতিলে 'বেশি কষ্ট গৃহিণীদের'

জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা নিয়ে সিদ্ধান্ত বদলে সবচেয়ে বেশি মূল্য দিতে হয়েছে গৃহিণীদের।

এমনটা জানিয়ে বুধবার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি বাংলা।  

তারা জানায়, পরিবারের জন্য ঈদের খাওয়ার আয়োজন করতে গিয়ে মঙ্গলবার গভীর রাত পর্যন্ত তাদের কাজ করতে হয়।

রংপুরের গৃহিণী মমতাজ বেগম মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকেই ঈদের রান্নার আয়োজন করতে শুরু করেছিলেন।

তবে বিপত্তি বাধে যখন জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি রাত নয়টার দিকে জানায়, বুধবারের বদলে ঈদ হবে বৃহস্পতিবার। রান্নাঘরের ভোগান্তিটা শুরু হয় তখন থেকে।

তিনি বিবিসি বাংলাকে জানান, 'আমরা তো ঈদের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। রান্নাবান্নাও অনেকখানি শেষ। হঠাৎ করেই সন্ধ্যার পরে শুনলাম ঈদ হচ্ছে না'।

তিনি বলেন, 'এরপর আবার তারাবির নামাজ পড়া, সেহেরির জন্য রান্না করলাম। তারপর এসে আবার জানলাম বুধবারই ঈদ হবে। এটা কেমন!'

বুধবার ঈদ হচ্ছে না জেনে অনেক পরিবার তাদের পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে বাধ্য হন।

ফ্রিজ থেকে বের করা কাঁচা মাছ-মাংস তারা আবার ফ্রিজে ঢুকিয়ে রাখেন।

চাঁদ দেখা নিয়ে বিভ্রান্তি বাংলাদেশে এর আগেও ঘটেছে।

পরে রাত ১১টায় যখন আবার ঘোষণা করে হলো যে ঈদ বুধবারই হবে তখন আবার সেই কাঁচা খাবার ফ্রিজ থেকে বের করতে হয়।

ঈদ হবে না জেনে গৃহকর্মী কিংবা রান্নাঘরের সাহায্যকারীদের বিদায় দিয়ে দেন অনেকে। ফলে ঈদ একদিন এগিয়ে আসায় অনেক গৃহিণী বিপাকে পড়ে যান।

বিউটি পার্লারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়েও বাধে গোলযোগ। ঈদ হবে না জেনে অনেকে তাদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল করেন।

ঈদ উপলক্ষে অনেকেই হাতে মেহেদি দিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার ঈদ হবে জেনে তারা সেটা মুছে ফেলেন।
বুধবার ঈদ হবে জেনে তাদেরকে আবার মেহেদির আয়োজন করত হয়।

আবীর খান নামে একজন বিবিসি বাংলার ফেসবুক পাতায় জানান, তার বাসায় সবাই রাত ন'টার খবর দেখেছেন যে বুধবার ঈদ হচ্ছে না। এর পর আর কোনো খবর দেখেননি। সবাই রাত ১০টার পর ঘুমিয়ে পড়েন।

'রাতে সময়মত উঠে তারা সেহেরিও খান। এরপর সকালে ঘুম থেকে উঠে জানতে পারেন ঈদ হচ্ছে বুধবার।'

যশোরের গৃহবধূ আফরোজা খাতুন বলছিলেন, মঙ্গলবারই তিনি খবর পেয়েছিলেন সৌদি আরবে ঈদ হয়েছে। সে অনুযায়ী বুধবার ঈদ হবে এটাই নিশ্চিত ছিলেন তিনি।

তাই দ্বিতীয় দফায় যখন জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি রাত ১১টা নাগাদ জানায় যে বুধবারেই ঈদ হবে তখন তিনি খুশিই হয়েছেন।

'আমি নিশ্চিত ছিলাম। তারপরে জানলাম ঈদ হবে না। তাই বেশ খানিকটা বিভ্রান্তিতে পড়েছিলাম। এরপর যখন রাতে জানলাম (বুধবার) ঈদ হবে তখন বেশ খুশি হয়েছি।'