স্বল্প পুঁজি নিয়েও মাশরাফীর যত চেষ্টা

২৪৪। একেবারে খারাপ পুঁজি কি? আনুধিক ক্রিকেটে ওয়ানডেতে আসলে এটা কোনো পুঁজিই না। তার ওপর সেটা যদি হয় আইসিসির ইভেন্টে, তাহলে তো কথাই নেই। উইকেটে যে সেখানে বোলারদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়ায় না কখনোই।

তাই বিশ্বকাপের মতো আসরে ম্যাচ জেতার জন্য বড় পুঁজি চাই। বাংলাদেশ যেমন বুধবার নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২৪৪ রানের পুঁজি নিয়েও ম্যাচ জিততে পারল না। দারুণ লড়াই করল অবশ্য। শেষ পর্যন্ত যে লড়াইয়ে ২ উইকেট আর ১৭ বল হাতে রেখে জয় কিউইদের।

তবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে আসর শুরু করা বাংলাদেশ সবার মন কাড়ল ঠিকই। বিশেষ করে অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা কি লড়াইটাই না করলেন তার সৈনিকদের নিয়ে। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জয়ের মনোভাব নিয়ে খেলে গেলেন। বোলিং পরিবর্তনে তার সিদ্ধান্তগুলো ছিল দারুণ বিচক্ষণ। যা বাংলাদেশকে প্রায় জয়ের দ্বার প্রান্তেই পৌঁছে দিয়েছিল।

স্কোরবোর্ডে আর কটা রান থাকলেই হয়তো ফলাফল অন্যরকম হতে পারতো। যে জন্য ব্যাটসম্যানদের কিছুটা দায় থাকেই। একমাত্র সাকিব আল হাসান এদিন ফিফটি পেলেন। আর কেউই থিতু হয়েও নিজেদের ইনিংসকে লম্বা করতে পারলেন না। ফলাফল যা হবার তাই হলো।

সাকিব বোলিংয়েও আলো কাড়লেন। নিলেন ২ উইকেট। মেহেদী হাসান মিরাজের এক ওভারেই ২ উইকেট তুলে নেওয়া ম্যাচের মোড়টাই ঘুরিয়ে দিচ্ছিল। সাইফউদ্দিন, মোসাদ্দেকের জোড়া উইকেটের ভূমিকা একই।

অধিনায়ক মাশরফী ৫ ওভার বল করে উইকেট পেলেন না ঠিক। কিন্তু সতীর্থদের দিয়েই সাজালেন রণপরিকল্পনা। মাশরাফী নিজেও ম্যাচ শেষে ২০-৩০ রানের জন্য আক্ষেপ করলেন।

তবে বোলিং নিয়ে ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘‘এই উইকেটে বল যেহেতু বল অতটা গ্রীপ করছে না। আমাদের শক্তি যেটা, স্পিনাররা ভালো সুযোগ তৈরি করেছে। সাইফউদ্দিন মাঝখানে এসে দুটি উইকেট নিয়েছে। মোস্তাফিজ আমাদের মূল অ্যাটাকিং বোলার। মোস্তাফিজের হয়তো বা দুইটা উইকেট প্রয়োজন ছিল।’’

‘‘দুই বলে দুইটা পড়ে যেতেই পারতই যে কোনো সময়। আমরা সুযোগটা নিয়েছিলাম। যদি কাজে লাগত হয়তো বা আমরা উইনিং সাইটে থাকতাম।’’

তবে নার্ভ ধরে রেখে ম্যাচ নিজেদের করায় নিউজিল্যান্ডকে কৃতিত্ব দিয়েছেন মাশরাফী।