বলিউডের নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকির কথা নিশ্চয়ই জানেন। জুনিয়র আর্টিস্ট হিসেবে যাত্রা করা এই অভিনেতা বড়জোড় ১-২ মিনিটের জন্যই পর্দায় দেখা যেত একসময়। সেই তিনিই এখন বলিউডের অন্যতম তারকা।
এক সময় রোজগারের জন্য ধনেপাতাও বিক্রি করেছেন। পড়াশোনার ফাঁকে কাজ করেছেন বাবার দোকানেও। উত্তরপ্রদেশের বুধানা গ্রামে জন্ম। ৮ ভাইবোনের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে বড়।
সম্প্রতি এক টিভি শোয়ে এসব কথা শেয়ার করেছেন তিনি।
রসায়ন নিয়ে পড়াশোনা করলেও কাজের খোঁজে দিল্লিতে এসে ভর্তি হন ‘ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামায়।
ক্যারিয়ারের শুরুতে কোনো পরিচালকই তাকে নিতে চাইতেন না তার চেহারার জন্য। আজ তিনি বলিউডের ‘এ-লিস্টেড’ অভিনেতাদের মধ্যে অন্যতম।
২০০৩ সালে ‘বাইপাস’ নামক একটি স্বল্প দৈর্ঘের সিনেমায় ইরফান খানের সঙ্গে অভিনয় করেন। পরিচালকদের নজরে পড়েন এই সিনেমার মধ্যে দিয়েই।
২০০৭ সালে ‘ব্ল্যাক ফ্রাইডে’ তাকে প্রথম পুরস্কার এনে দেয়। এরপর একে একে ‘নিউইয়র্ক’, ‘দেব-ডি’, ‘পিপলি লাইভ’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করেন।
২০১২ সালে বলিউড তার অভিনয় দক্ষতার প্রমাণ পায়। ‘কহানি’র পুলিশ অফিসার থেকে ‘গ্যাংস অব ওয়াসিপুর’-এর মাফিয়া। আবার ‘পান সিংহ তোমার’-এর বায়োপিকেও অভিনয় করেন তিনি।
ফিল্মফেয়ার থেকে ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড সবই পেয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি তিনি ‘মান্টো’ ও বাল ঠাকরের জীবনের উপর ভিত্তি করে তৈরি ‘ঠাকরে’তে অভিনয় করে দর্শক ও সমালোচকদের কাছ থেকে প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
ওয়েব সিরিজ ‘সেক্রেড গেমস’-এ তার অভিনয় নিয়ে চর্চা হয়েছিল অনেক। তারই দ্বিতীয় সিজনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এখন তিনি।
পর্দার পেছনে তিনি অত্যন্ত সাধারণভাবে জীবনযাপন করতে পছন্দ করেন। ছোটবেলা দারিদ্রতায় কাটিয়েছেন বলেই টাকার মূল্য বোঝেন।
তিনি বিবাহিত, তার স্ত্রীর নাম অঞ্জলি সিদ্দিকি। শোরা ও ইয়ানি নামে দুই ছেলেমেয়ে রয়েছে তাদের।