সুদানে গত সোমবারের গণতন্ত্রকামীদের বিক্ষোভে সামরিক বাহিনীর হামলার ঘটনায় নীলনদ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে গণতন্ত্রকামী ৪০ জনের লাশ।
সুদানের রাজধানী খার্তুমে গণতন্ত্রকামী একদল বিক্ষোভকারীর ওপর সোমবার লাঠিপেটা ও গুলিবর্ষণ করে অন্তর্বর্তীকালীন সামরিক সরকারের বাহিনী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর সামরিক বাহিনীর এ হামলায় প্রায় ৬০ জন নিহত হন। লাশের সংখ্যা আসলেই কত ছিল, তা নিশ্চিত করার আগেই আধা সামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে নীলনদে নিহত ব্যক্তিদের লাশ ভাসিয়ে দেওয়ার।
নীলনদে বিক্ষোভকারীদের লাশ উদ্ধারের ঘটনার নিন্দা জানান জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তনিও গুতেরেসসহ বিশ্ব নেতারা। যদিও সুদানের ক্ষমতাসীন সামরিক বাহিনী শুরু থেকেই লাশ গুমের বিষয়টি অস্বীকার করে আসছিল।
বুধবার নীলনদ থেকে লাশ উদ্ধারের পরে ক্ষমতাসীন সামরিক কাউন্সিলের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান বিক্ষোভকারীদের হত্যার বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন।
এ বছরের এপ্রিলে স্বৈরশাসক ওমর আল-বশিরের ৩০ বছর শাসনের অবসান ঘটিয়ে সুদানের ক্ষমতা দখল করে সামরিক বাহিনী। গত বছর ডিসেম্বর থেকে ওমর আল-বশিরের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছিল। সামরিক কাউন্সিল ও বিরোধীদের মধ্যে পরবর্তী নির্বাচন বিষয়ে আলোচনাও চলছিল। বিরোধী দলের বিক্ষোভ ছিল দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার পক্ষে।
সোমবার বিক্ষোভকারীরা দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাইরে গণতন্ত্রের দাবিতে বিক্ষোভ করছিল। তখনই সামরিক বাহিনী হামলা চালায়। বিক্ষোভকারী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের করা ভিডিওতে দেখা যায়, প্রতিরক্ষাবাহিনীর সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের পেটাচ্ছে এবং সেখানে ধোঁয়ার মধ্যে আতঙ্কিত বিক্ষোভকারীরা ছুটোছুটি করছে।
আরবের অন্যান্য দেশের মতো গত মঙ্গলবার সুদানেও ঈদ পালন করা হয়। যদিও সেখানের ফাঁকা রাস্তায় ঈদের আনন্দের চেয়ে নিরাপত্তাবোধের আতঙ্কই বেশি দেখা যায়। সুদানের বাসিন্দারা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তাদের আতঙ্কের কথা জানিয়েছেন। এর মধ্যে মঙ্গলবার সামরিক কাউন্সিলের প্রধান আল-বুরহান নয় মাসের মধ্যে জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা দেন।
সরকারি মালিকানাধীন এক টেলিভিশন চ্যানেলে আল-বুরহান বলেন, সুদানকে শাসন করার এখন একমাত্র উপায় ‘ব্যালট বাক্স’।
সূত্র: বিবিসি