বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচের রোমাঞ্চ ছাপিয়ে সামনে ওঠে এল বিতর্কিত আম্পায়ারিং প্রসঙ্গ। যে জন্য চরম মূল্য দিতে হলো ক্রিস গেইল ও তার দলকে। উত্তেজনা ও রোমাঞ্চ শেষে ম্যাচ জিতে নিল অজিরা।
বৃহস্পতিবার ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৫ রানে হারায় অস্ট্রেলিয়া। নটিংহ্যামে আগে ব্যাট করে বিপর্যয়ের পরও ২৮৮ রানের পুঁজি গড়ে অস্ট্রেলিয়া। জবাবে ক্যারিবীয়দের ইনিংস থেমেছে ৯ উইকেটে ২৭৩ রানে।
আসরে এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে জয় পেল অস্ট্রেলিয়া। নিজেদের প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল তারা। আর পাকিস্তানকে উড়িয়ে আসর শুরু করা উইন্ডিজ পেল প্রথম হারের স্বাদ।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে উইন্ডিজ এদিন দলীয় ৭ রানেই হারায় ইভিন লুইসের উইকেট। ১ রান করা লুইসকে ফেরান প্যাট কামিন্স। এরপর মিচেল স্টার্কের শিকার হয়ে ফেরেন ক্রিস গেইল। আসলে আম্পায়ারের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কাছে পরাজিত হতে হয় তাকে। ফেরার আগে দিচ্ছিলেন ঝড়ের ইঙ্গিত। ১৭ বলে ৪ চারে ২১ রান করেন।
গেইলকে আউট করতে যেন ওঠে পড়ে লাগলেন আম্পায়ার ক্রিস গ্যাফানি। উইন্ডিজ ইনিংসের তৃতীয় ওভারে দুই-দুইবার গেইলকে আউট দিলেন। তবে আম্পায়ারের দেওয়া সিদ্ধান্তের পর রিভিউ নিয়ে বাঁচেন গেইল। অর্থাৎই দুইবারই ভুল ছিলেন আম্পায়ার।
স্টার্কের পরের ওভারেই ফিরতে হয় গেইলকে। পঞ্চম ওভারের পঞ্চম বলটিতে আম্পায়ার গ্যাফানি গেইলের বিপক্ষে এলবিডব্লিউয়ের সিদ্ধান্ত দেন। গেইল এবার রিভিউ নিয়েও পার পাননি। কিন্তু পরে টিভি ক্যামেরায় দেখা যায়, স্টার্কের করা ঠিক আগের বলটিই ‘নো’ বল ছিল। অর্থাৎ গেইল যে বলে আউট হলেন, নিয়ম অনুযায়ী সেটি ফ্রি হিট হতো। কিন্তু ‘নো’ বলের বিষয়টি এড়িয়ে গেছে গ্যাফানির চোখ।
এই বাজে আম্পায়ারিংয়ের ম্যাচ উইন্ডিজ লড়াই করার চেষ্টা করেছে। শাই হোপ ১০৫ বলে ৭ চারে ৬৮ রানের ইনিংস খেলেছেন। নিকোলস পুরান ৩৬ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় করেন ৪০ রান। জেসন হোল্ডার ৫৭ বলে ৭ চার ও ১ ছক্কায় ৫১ রান করেছেন। তারপরও অবশ্য জেতা হয়নি।
আম্পায়ারিংয়ের ওই বাজে সিদ্ধান্তকে একপাশে রাখলে কৃতিত্ব দিতে হবে অজি বোলারদেরও। মিচেল স্টার্ক নিয়েছেন ৫ উইকেট। ২ উইকেট নিয়েছেন কামিন্স। অ্যাডাম জাম্পা নেন ১ উইকেট।
এর আগে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে লেখা হয় দারুণ ফেলার গল্প। ৭৯ রানে ৫ উইকেট পড়ে যাওয়ার পরও স্টিভ স্মিথের দৃঢ়তা ও নাথান কোল্টার নাইলের রেকর্ড গড়া ইনিংসে চ্যালেঞ্জিং পুঁজি পায় অজিরা।
দলের বিপর্যয়ে স্টিভ স্মিথ শুরু থেকেই দারুণ লড়াই করে গেছেন। খেলেছেন ৭৩ রানের ইনিংস। বল টেম্পারিংয়ের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে দলে ফেরার পর এটিই তার প্রথম ফিফটি। ১০৩ বলে ৭ চারে ৭৩ রানের ইনিংস খেলেছেন তিনি।
আর কোল্টার-নাইল ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে করেন ৯২ রান। ৬০ বলের ইনিংসে ৮টি চারের সঙ্গে মেরেছেন ৪টি ছক্কা। বিশ্বকাপে আট নম্বরে নেমে কোনো ব্যাটারের এটিই সর্বোচ্চ রানের ইনিংস।
উইকেটরক্ষক অ্যালেক্স ক্যারির কথাও বলতে হবে। সাত নম্বরে নেমে তিনি খেলেছেন ৫৫ বলে ৪৫ রানের ইনিংস। ১ ওভার বাকি থাকতেই অবশ্য অস্ট্রেলিয়া গুটিয়ে যায়।
উইন্ডিজের পক্ষে কার্সোল ব্র্যাথওয়েট সর্বাধিক ৩ উইকেট নিয়েছেন। ২টি করে উইকেট নিয়েছেন ওশানে থমাস, শেলডন কটরেল ও আন্দ্রে রাসেল।
ম্যাচসেরার পুরস্কার হাতে ওঠে নাথান কোল্টার নাইলের।