নেত্রকোনায় পানিতে ডুবে ৩ শিশুসহ পৃথক দুর্ঘটনায় ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঈদের আগের দিন হতে পরের দিন পর্যন্ত তিন দিনে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
এদের মধ্যে পানিতে ডুবে বুধবার ঈদের দিন ১ শিশু ও বৃহস্পতিবার ঈদের পরের দিন ২ সহোদর এবং মঙ্গলবার ঈদের আগের দিন পৃথক দু’টি সড়ক দুর্ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতাসহ আরও ৩ জন নিহত হয়েছেন।
ঈদের পরের দিন বৃহস্পতিবার দুপুরে মোহনগঞ্জ উপজেলার গাগলাজুর ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামে খালের পানিতে ডুবে তামিম (৫) ও শামিম (৪) নামে দুই ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। দিনমজুর আলম মিয়ার দুই ছেলে তামিম ও শামিম অন্যান্য শিশুদের নিয়ে দুপুর ১টার দিকে বাড়ির সামনে খালের পাড়ে খেলা করছিল। এ সময় ছোট ভাই শামিম হঠাৎ খালের পানিতে পড়ে গেলে বড় ভাই তামিম তাকে বাঁচাতে গিয়ে দুই ভাই খালের পানিতে ডুবে যায়। তখন খালের পাড়ে থাকা অন্যান্য শিশুরা দৌড়ে বাড়িতে গিয়ে পরিবারের লোকজনকে ঘটনাটি জানায়। প্রায় এক ঘণ্টা তল্লাশি চালিয়ে ২টার দিকে দুই ভাইয়ের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। গাগলাজুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান পানিতে ডুবে দুই সহোদরের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঈদের দিন বুধবার সকালে কলমাকান্দা উপজেলায় নাজিরপুর ইউনিয়নের রহিমপুর গ্রামে নানার বাড়িতে বেড়াতে আসা শিশু আমিনুল ইসলাম (৩) পুকুরে ডুবে মারা যায়। সে পার্শ্ববর্তী দুর্গাপুর উপজেলার চণ্ডীগড় ইউনিয়নের মধুয়াকোনা গ্রামের নয়ন মিয়ার ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, ঈদের দিন সকালে ঈদের নামাজ আদায় করার জন্য সকলে ঈদগাহ মাঠে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ দেখে আমিনুল তাদের আশপাশে নেই। অনেক খোঁজাখুঁজির পর নানা বাড়ির পুকুর থেকে তাকে উদ্ধার করে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. পল্লব সাহা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঈদের আগের দিন মঙ্গলবার সকালে কেন্দুয়া উপজেলায় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাস চাপায় নিলু মিয়া (৩৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহত নিলু মিয়া জেলার মদন উপজেলার চাঁনগাও গ্রামের দুলখালি মিয়ার ছেলে। ঈদ উপলক্ষে চট্টগ্রাম থেকে শ্যামলী পরিবহনে করে বাড়িতে ফিরছিলেন তিনি। বাসটি কেন্দুয়া উপজেলায় পৌঁছে যাত্রী নামানোর সময় নিলু মিয়াও নেমে পড়েন। পরে বাস ছেড়ে দিলে চলন্ত বাসে উঠতে গিয়ে বাসের নিচে চাপা পড়ে মারাত্মকভাবে আহত হন তিনি। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে ওই দিন দুপুরে নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ সড়কে রেল গেটের কাছে একটি দ্রুতগামী বাসের ধাক্কায় তিন মোটরসাইকেলের আরোহী মারাত্মক আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে নেত্রকোনা হাসপাতাল পরে ময়মনসিংহ হয়ে ঢাকায় নেয়ার পথে দুজনের মৃত্যু হয়। তারা হলেন- সদর উপজেলার চল্লিশা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান ওরফে ফসর আলী (৫৫) ও বামনমোহা গ্রামের শাহজাহান মিয়ার ছেলে শফিকুল ইসলাম (২৫) মারা যান।
পুলিশ সুপার জয়দেব চৌধুরী সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।