তিন বিভাগে ভালো করেই রুখতে হবে ইংল্যান্ডকে

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে কথা বলার আগে অবধারিতভাবেই চলে আসছে নিউজিল্যান্ডের কাছে ২ উইকেটে হারের বিষয়টি। দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরুর পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়ে শেষ পর্যন্ত পারেনি বাংলাদেশ। তাতে হয়তো বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের দোষ খোঁজা যেতে পারে। তবে আমি বলব আমরা হেরেছি নিউজিল্যান্ডের দুর্দান্ত বোলিং এবং ফিল্ডিংয়ের কাছে।

আমাদের আটজন ব্যাটসম্যান উইকেটে থিতু হওয়ার পর আউট হয়ে গেছে। ফলে বড় কোনো জুটি হয়নি। পরিকল্পিত বোলিং এবং ভালো ফিল্ডিং করে সেটা করতে দেয়নি নিউজিল্যান্ড। ওদের বোলিং এবং ফিল্ডিং দেখে মনে হয়েছে ওরা হোমওয়ার্কটা খুব ভালো করেছে। এবং পরিকল্পনাগুলো মাঠে দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছে। একটা যদি বড় জুটি হতো বাংলাদেশের রানটা ২৭০-২৮০ হতে পারত। সে ক্ষেত্রে আমাদের জয়ের সুযোগটা অনেক বেড়েই যেত। একটা ভুল বোঝাবুঝির ফলে মুশফিককে রান আউট হয়ে ফিরতে হয়েছে। যেটা ছিল বড় ধাক্কা। আসলে এখানে আমি দুজনের ভুল দেখছি। মুশফিকের ওইরকম ঝুঁকিপূর্ণ রানের জন্য দৌড়ানো উচিত হয়নি। আর সাকিব কিন্তু দৌড় শুরু করে তারপরও দাঁড়িয়ে দেছে। ওরা দুজন উইকেটে আরও কিছুক্ষণ একসঙ্গে থাকলে সংগ্রহটা বড় হতো। নিউজিল্যান্ডের বোলারদের কৃতিত্ব দেব তারা একেবারে পরিকল্পনামাফিক যাকে যেরকম বল করা উচিত সেটাই করে গেছে। আর ফিল্ডাররা দিয়েছে দারুণ সমর্থন। বোলিং পরিবর্তন, ফিল্ডিং সেটআপে মুন্সিয়ানা দেখিয়েছে নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক।

আমাদের বোলাররা কিন্তু ওদের মতো লাইন-লেংথ বজায় রেখে শুরুর দিকে বল করতে পারেনি। শর্টপিচ বল করে কোনো সুবিধা করতে পারেনি। স্পিনার দুজন খুব ভালো বল করেছে। সব মিলিয়ে আমার মনে হয়েছে নিউজিল্যান্ড ম্যাচটা আরও বেশি উইকেটে জিততে পারত। কিন্তু জিতেছে ২ উইকেটে। এই ম্যাচ থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি এটাই যে, তারা ম্যাচটা অনেক বেশি ক্লোজ করে তুলতে পেরেছে। তবে ফিল্ডিংটা নিউজিল্যান্ডের মতো ভালো হয়নি। সেটা হলে হয়তো আমরা জিততে পারতাম। মুশফিকের রান আউট করতে না পারাটা আমার কাছে হাস্যকর লেগেছে। রান আউটটা হয়ে গেলে হয়তো আমরা জিততে পারতাম। আমার মনে হয় দলে যেহেতু আরও দুজন ব্যাকআপ উইকেটকিপার আছে, সে ক্ষেত্রে মুশফিককে একটু বিশ্রাম দিয়ে দেখা যেতে পারে। তাতে ও ব্যাটিংয়ে বেশি মনোযোগ দিতে পারবে।

বলাবলি হচ্ছিল এই বিশ্বকাপে কেউই ইংল্যান্ডকে রুখতে পারবে না। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে

নাস্তানাবুদ হওয়ার পর পাকিস্তান যেভাবে ওদের হারিয়ে দিয়েছে সেটাই কিন্তু বাংলাদেশকে আজ করতে হবে। পাকিস্তান ব্যাটিংয়ে তো অনেক ভালো করেছে। এর সঙ্গে বোলিংটা ছিল নিখুঁত। পাকিস্তানের ফিল্ডিং কখনই খুব ভালো হয় না। কিন্তু ওই ম্যাচে ওরা দুর্দান্ত ফিল্ডিংও করেছে। অর্থাৎ তিনটি বিভাগেই তারা ইংল্যান্ডকে পেছনে ফেলে ম্যাচটা জিতেছে। ইংল্যান্ডকে দেখে মনে হচ্ছিল তারা পাকিস্তানকে একটু হালকাভাবে নিয়েছিল। বাংলাদেশের বিপক্ষে কিন্তু তাদের মনোভাব এরকম থাকবে না। ইংল্যান্ডকে হারাতে হলে শুরুতে ব্যাট করলে অবশ্যই ৩০০-এর ওপরে রান করতে হবে। তাহলে বোলাররা লড়াই করার একটা রশদ পাবে। ওদের ব্যাটিং গভীরতা এতই ভালো যে, ওদের বিপক্ষে ২৮০-২৯০ মোটেই নিরাপদ সংগ্রহ নয়। এই ম্যাচে জিততে হলে ব্যাটিংটা তো অবশ্যই ভালো করতে হবে। একই সঙ্গে পরিকল্পনা অনুযায়ী বোলিং এবং ভালো ফিল্ডিং করতে হবে। ব্যাটিংয়ের ক্ষেত্রে আমি বলব তামিমের ভালো করাটা খুব জরুরি। ওকে দেখে আমার কেন যেন মনে হচ্ছে ও একটু বেশি দায়িত্ব নিয়ে ফেলেছে। সৌম্য যেহেতু একটু মেরে খেলছে, ও হয়তো একটু নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে চাইছে ডিফেন্সিভ খেলে উইকেট টিকিয়ে রাখতে। তামিম এখনো দেশের সেরা ব্যাটসম্যান এবং ও আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান। আমি মনে করি, খুব বেশি দায়িত্ব না নিয়ে তামিমের উচিত তার সহজাত ব্যাটিং করা। ও এখন অনেক পরিণত ও অভিজ্ঞ। ও জানে কোন বলটা মারতে হবে, কোনটা ছাড়তে হবে। সুতরাং আমার মনে হয় আক্রমণাত্মক থেকেও উইকেট টিকিয়ে খেলাটা ও জানে। সেভাবেই ওকে মাঠে দেখতে চাই। মিঠুন দুটি ম্যাচেই ২০-এর ঘরে রান করেছে। আমি মনে করি ওকে আরেকটা ম্যাচে সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। তবে বেশি সুযোগ দেওয়া ঠিক হবে না। মাশরাফী বরাবরই দলকে দারুণভাবে উজ্জীবিত করে। তবে গত দুই ম্যাচে ওর বোলিংটা তেমন কার্যকর হয়নি। ওভালের উইকেটে ১২০-১২৫ গতিতে বল খুব সহজে খেলা যায়। ও যদিও আর একটু ওপরে বল করতে পারে তবে খেলাটা কঠিন হবে। এখন যেহেতু অন্য মাঠে খেলা হবে, আশা করব মাশরাফী তার কাজটা শুরু করে দেবে এখন থেকে।