রাজবাড়ী সদর উপজেলার পাঁচুরিয়া ইউনিয়নে বোরকা পরে একদল দুর্বৃত্ত দশম শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এর আগে ওই স্কুলছাত্রী যৌন হয়রানির শিকার হন।
এ ঘটনায় শনিবার স্কুলছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে রাজবাড়ী থানায় চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
তবে এখনো কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।
স্কুলছাত্রীর মা জানান, বুধবার ঈদের দিন দুপুরে প্রতিবেশী শিল্পী বেগম স্থানীয় এক যুবকের সঙ্গে তার মেয়ের আপত্তিকর ও অশ্লীল ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাদের কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করে। আমার মেয়ে টাকা দিতে অপারগতা জানিয়ে প্রতিবাদ করলে শিল্পী বেগম চলে যায়।
তিনি আরো জানান, পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টার দিকে বোরকা পরিহিত দু’জন লোক জোরপূর্বক তার মেয়েকে তুলে নিয়ে যায়। ছোট মেয়ের চিৎকারে তার ঘুম ভেঙে যায় এবং খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে পাশের পাটখেত থেকে কিছুটা দগ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে তাকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ওই স্কুলছাত্রীর বড় ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র জানান, দুর্বৃত্তরা তার বোনকে বেঁধে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে মারতে চেয়েছিল। কিন্তু লোকজনের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসায় তারা দেশলাই দিয়ে আগুন ধরালেও কেরোসিন ঢালতে পারেনি। এ কারণে স্থানীয়রা তার বোনকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করতে পেরেছে।
তিনি জানান, এ ঘটনায় তাদের পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে । তবে লোক লজ্জার ভয়ে প্রথমে থানা পুলিশকে কিছু না জানালেও শুক্রবার রাতে আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিষয়টি পোস্ট করি। এরপর বিষয়টি থানা পুলিশে গড়ায়।
ঘটনার শিকার স্কুলছাত্রী জানান, তাদের পাশের গ্রামের রাজু নামে এক যুবক তাকে পছন্দ করত। সম্প্রতি স্কুল থেকে বাড়ি আসার পথে শিল্পীর সহায়তায় ওই ছেলে তাকে লাঞ্ছিত করে এবং আপত্তিকর ছবি তোলে। শিল্পী ওই ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে আমার পরিবারের কাছে টাকা দাবি করে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হওয়ায় শনিবার রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি পিপিএম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ওই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।
তিনি জানান, ঘটনার বিষয়ে মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশের দুটি দল মাঠে নেমেছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
রাজবাড়ী থানার ওসি স্বপন কুমার মজুমদার জানান, এ ঘটনায় শিল্পী বেগমসহ অজ্ঞাত চারজনকে আসামি করা হয়েছে। ইতিমধ্যে অগ্নিদগ্ধ মেয়েটির পরিহিত কাপড়সহ কিছু আলামত উদ্ধার করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।