ঈদের পরে আকাশ ছুঁয়েছে চট্টগ্রামের কাঁচাবাজার। ঈদের আগের দিনের তুলনায় গতকাল শনিবার সবজি ও মাছের দাম বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে। তবে ক্রেতাদের বক্তব্য, বেশি লাভের আশায় মানুষের প্রয়োজনীয়তাকে জিম্মি করছেন ব্যবসায়ীরা। বাজারে সরবরাহের ঘাটতি নেই।
গতকাল শনিবার নগরীর কাজির দেউড়ি বাজার, বক্সিরহাট, ফিরিঙ্গিবাজার ও রেয়াজুদ্দিন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ সবজির দামই কেজিপ্রতি বেড়েছে ১৫ থেকে ৪০ টাকা। ওই সব বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের আগের দিন যে পটোল ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে, সেই পটোলই গতকাল বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে। ঈদের আগের ২০ টাকা দরের শসা বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়, প্রতি কেজি ঢেঁড়সের দাম ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়, ২৫ টাকার করলা ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ঈদের আগের দিন যে বরবটির কেজি ছিল ৪০ টাকা তা বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। বেগুনের দাম কেজিতে ১৫-২০ টাকা বেড়ে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ বিষয়ে বক্সিরহাট বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. আশরাফ বলেন, ঈদের কারণে বেশির ভাগ আড়ত বন্ধ আছে। যা-ও কয়েকটা খোলা আছে তাতে সবজি আসছে খুবই কম। এ জন্য পাইকাররা দাম রাখছেন বেশি। তিনি জানান, শিগগিরই এই দাম কমার সম্ভাবনা নেই।
তবে একই বাজারে সবজি কিনতে আসা রিজয়ানুল বলেন, সরবরাহ কম থাকার নামে সবজির দাম বাড়ানো হয়েছে। অথচ তারা বাড়তি মুনাফার লোভেই এটা করেছে। তিনি বলেন, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, পটিয়া, চন্দনাইশ থেকে সবজি আসছে। দোকান ও আড়তভর্তি সবজি আছে। সরবরাহ কম হলে এসব সবজি আসছে কেমনে?
এদিকে সাগরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞার কারণে ঈদের আগে থেকেই বাজারে সামুদ্রিক মাছের সংকট। ঈদের পরে সেই সংকটের সুযোগটা আরও বেশি করে নিয়েছেন মাছ ব্যবসায়ীরা। স্বাদু পানির মাছের দামও ইচ্ছামতো বাড়িয়ে দিয়েছেন তারা। চাষের মাছের দামও আকাশছোঁয়া।
শনিবার দেখা গেছে, বেশির ভাগ মাছের দামই কেজিতে ১০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি বিক্রি হচ্ছে। কাজির দেউরি বাজারে প্রতি কেজি রুই (বার্মা) মাছ বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৩০০ টাকা দরে। অথচ গত সপ্তাহে ২৪০-২৬০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। ১২০ টাকা কেজির পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকায়। সাধারণ ক্রেতাদের সবচেয়ে বেশি চাহিদার তেলাপিয়া মাছ বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। একইভাবে ১০০ টাকা বেড়ে কাতল মাছ বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৪০০ টাকায়। পাবদা ৫০০, চিংড়ি ৬৫০, ইলিশ ১ হাজার, কালিবাউশ ৩৫০ ও সরপুঁটি ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছ বিক্রেতারা জানান, স্বজনদের সঙ্গে ঈদের ছুটি কাটাতে ফিশারিঘাটের বেশির ভাগ পাইকার ও শ্রমিক গ্রামের বাড়িতে; তাই এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে।