নিঃসঙ্গ সেঞ্চুরিয়ান

রানের বসন্ত চলছে সাকিব আল হাসানের ব্যাটে। ক্যারিয়ারে এতটা ধারাবাহিক কখনোই ছিলেন না তিনি, যতটা এই বিশ্বকাপে। ব্যাটিং অর্ডার বদলে ৩-এ ওঠার পর দেশসেরা ক্রিকেটার ‘সেরার’ মতোই খেলছেন। দায়িত্ব নিয়ে ব্যাট চালিয়ে রান করছেন একটানা।

সেই ধারাবাহিকতায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও হাসল তার ব্যাট। ১১৯ বলে করলেন ১২১। এর আগে ইংলিশদের রান উৎসব চলেছিল। জেসন রয়ের ১৫৩ রানের সুবাদে ৬ উইকেটে ৩৮৬ রানের সংগ্রহ পায় ইংলিশরা। ওই লক্ষ্যের পিছে ছুটে জয় তোলা অসম্ভবের অপর নাম। তবুও সাকিব চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু একাই লড়লেন। যোগ্য সাহচর্য পেলেন না কারও।

ক্যারিয়ারের অষ্টম ওয়ানডে সেঞ্চুরি পেয়ে গেলেন সাকিব। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তার প্রথম সেঞ্চুরি ও ইংল্যান্ডের মাটিতে দ্বিতীয়। তার কীর্তিতে বাংলাদেশ পেল বিশ্বকাপে দ্বিতীয় সেঞ্চুরিয়ান। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে এ নিয়ে তিনটি সেঞ্চুরি পেল বাংলাদেশ। আগের দুটি মাহমুদউল্লাহর। টানা সাফল্য দিয়ে গত ছয় ম্যাচে পঞ্চম হাফসেঞ্চুরি পেয়েছিলেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। যাকে টেনে নিলেন সেঞ্চুরিতে। এতে শেষ ছয় ম্যাচে সাকিবের ব্যাট থেকে এলো চার হাফসেঞ্চুরি ও এক সেঞ্চুরি। সত্যিই সাকিবের ব্যাটে রানের বসন্ত চলছে।

টানা তিন ম্যাচে ব্যাট হাসায় গতকাল পর্যন্ত আসরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়েছেন সাকিব। দুই হাফসেঞ্চুরি ও এক সেঞ্চুরিতে ১৩০ গড়ে করেছেন ২৬০ রান। কয়েক ঘণ্টা আগে জেসন রয় টপকেছিলেন সাকিবকে। কিন্তু বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার ২১৫ রান করা রয়কে টপকে শীর্ষে উঠলেন আবার।

গতকালকের ইনিংস দিয়ে বিশ্বকাপে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ রানের মালিক তার রেকর্ডকে আরও বাড়িয়ে নিলেন। বিশ্বকাপে ২৪ ম্যাচে ১ সেঞ্চুরি ও ৭ হাফসেঞ্চুরিতে তার বর্তমান সংগ্রহ ৮০০ রান। ৬৫১ রান নিয়ে পেছনে আছেন মুশফিকুর রহিম। কালকের ভেন্যুর সঙ্গে সাকিবের সেঞ্চুরির দারুণ মিল আছে। তার সর্বশেষ সেঞ্চুরিটিও কিন্তু এই কার্ডিফেই ছিল। ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে।

গত ম্যাচের আগে টানা তিন ওয়ানডেতে হাফসেঞ্চুরি করেছেন সাকিব। সর্বশেষ আট ম্যাচে তার ব্যাট থেকে এসেছে পাঁচটি হাফসেঞ্চুরি ও একটি সেঞ্চুরি। ক্যারিয়ারে আরও কয়েকবার ব্যাটে ধারাবাহিকতা দেখিয়েছেন সাকিব। সবই টানা দুই ম্যাচ পর্যন্ত ছিল। টানা এত ম্যাচে ৫০ বা তার বেশি রান পাওয়া সাকিবের জন্য এই প্রথম। গত বছর ঢাকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তার এই ধারাবাহিকতার শুরু ৬৫ দিয়ে। পরের ম্যাচে সিলেটে ব্যাট করেননি। তার পরের ম্যাচ আয়ারল্যান্ড সিরিজে আবার সেই উইন্ডিজ। এবার অপরাজিত ৬১। এরপরের ম্যাচে ২৯। এরপর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে অপরাজিত ৫০ এবং বিশ্বকাপের দুই ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে যথাক্রমে ৭৫ ও ৬৪। আর গতকাল আগের ইনিংসগুলোকে ছাপিয়ে ১২১।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংগ্রহের কারিগর সাকিব-মুশফিক কাল আবারও জ্বলে উঠেছিলেন। এ নিয়ে ষষ্ঠবারের মতো শতরান বা তার বেশি জুটি দাঁড় করালেন দুজন। গতকালেরটি ছিল ১০৬ রানের। এ ছাড়া বিশ্বকাপে বাংলাদেশের শীর্ষ পাঁচ জুটির চারটিতেই আছেন মুশফিক।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আসরের প্রথম ম্যাচে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ১১ হাজার রানের মাইলফলক ছুঁয়েছিলেন। তামিম ইকবালের পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে এ অর্জন ছিল তার। ওই ম্যাচেই ওয়ানডেতে দ্রুততম সময়ে (১৯৯ ম্যাচ) ৫ হাজার ও ২৫০ উইকেটের রেকর্ডও গড়েছিলেন সাকিব। অলরাউন্ডারদের এই সংক্ষিপ্ত তালিকায় সাকিবের আগে ছিলেন যথাক্রমে শহিদ আফ্রিদি, জ্যাক ক্যালিস, সনাৎ জয়সুরিয়া ও শীর্ষে আবদুল রাজ্জাক।