তবু জয়ের ব্যাপারে বিশ্বাস ছিল বাংলাদেশের

সামনে ছিল পাহাড় সমান টার্গেট। এরপরও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পাওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশের বিশ্বাস ছিল বলে জানালেন দলের সেরা পারফর্মার সাকিব আল হাসান।

কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেনসে শনিবার বিশ্বকাপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে স্বাগতিক ইংলিশদের কাছে ১০৬ রানে হারে বাংলাদেশ। ৩৮৭ রানের টার্গেট অতিক্রম করতে গিয়ে ২৮০ রানে গুঁড়িয়ে যায় মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার দল। টাইগারদের জয়ে ব্যাটহাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন সাকিব। বিশ্বকাপে নিজের প্রথম শতকের (১২১) দেখা পান তিনি।

ম্যাচ শেষে ওয়ানডে ক্রিকেটে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার জানান, বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও বাংলাদেশ জয়ের বিশ্বাস রেখেছিল। আর এ কারণে নজর ছিল প্রথম ৩০ ওভারে। টি-টোয়েন্টির ছন্দে খেলে শেষদিকে আরও দ্রুত রান তোলার ছিল লক্ষ্য। যদিও শেষ পর্যন্ত উদ্দেশ্য পূরণ হয়নি বাংলাদেশের।

“আমরা দেখতে চেয়েছিলাম ৩০ ওভারে আমরা কোন অবস্থানে থাকি। ৩০ ওভারের পর আমাদের ২০০ রানের মত প্রয়োজন ছিল। টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অনেক ভালো খেললে আপনি এই রান করতে পারেন। আমরা কখনোই এমন ভাবছিলাম না যে রানটা তাড়া করা যাবে না। তবে এটা কঠিন ছিল, শুরু থেকেই। একটা সময় আমাদের মনে হচ্ছিল জিততে না পারলেও আমরা খুব কাছে যেতে পারব। আমাদের এই বিশ্বাসই ছিল।”

মুশফিকুর রহিমের সাথে দারুণ জুটি গড়ে একটা পর্যায়ে দিচ্ছিলেন জয়েরই ইঙ্গিত। তবে দুজনই সাজঘরে ফিরলে ফিকে হয়ে যায় সে স্বপ্ন।

এ ব্যাপারে সাকিব বলেন, “আমাদের পার্টনারশিপ ভালো হচ্ছিল। একসাথে দুইটা উইকেট পড়ার পরই আমরা পেছনে চলে গেছি। ৩২০-৩৩০ রান হলে আমরা স্বাচ্ছন্দে জিততে পারতাম। একটা সময় ২ উইকেট হারিয়ে ৩০ ওভারে ১৮০ রানের মতো করেছিলাম। ৩৮০ রানের মতো রান সবসময় আমাদের বিপক্ষেই যাবে।”

ম্যাচ হেরে গেলেও সাকিব শনিবার হাঁকিয়েছেন বিশ্বকাপে নিজের প্রথম শতক। এর আগে ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে একই মাঠে হাঁকিয়েছিলেন সর্বশেষ শতক। তবে দল জিতলে আরো ভালো লাগতো বলে জানিয়েছেন সাকিব, “প্রথম বিশ্বকাপ শতক, ভালো লাগা স্বাভাবিক। দল জিতলে ভালো লাগত। দলের পরিকল্পনা তো থাকেই। কিন্তু মারমুখো ব্যাটিং এলে অনেক সময় কোনো পরিকল্পনাই কাজে আসে না। মাঠ খুব ছোট। আমাদের বোলারদের বল ব্যাটসম্যানরা সোজাই বেশি মারবে। কিছু নেতিবাচক দিকও আমাদের ছিল। আসলে কারণ দেখানো যেতেই পারে। চেষ্টা করতে হবে পরের ম্যাচে মাঠের যে অবস্থাই থাক যে কন্ডিশনই থাক আমরা যেন মানিয়ে নিতে পারি।”