সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে আশাতীত সাফল্য পেয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিজেপি। এবার রাজ্যের বিধানসভা দখলের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে দলটি।
আগামী ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪ আসনের বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এনডিটিভি জানায়, বিজেপির লক্ষ্য বিধানসভা নির্বাচনে অন্তত ২৫০ আসন পাওয়া। এজন্য একেবারে তৃণমূল সংগঠন জোরালো করার পরিকল্পনা করছে তারা।
সদ্যসমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে গেরুয়া বাহিনী বাংলায় ৪২টি আসনের মধ্যে ১৮টি আসন দখল করেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের থেকে মাত্র চারটি আসন কম পেয়েছে তারা। তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ২২টি আসন।
এখন বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলকে টেক্কা দিতে বিজেপি জোর দিচ্ছে ক্ষমতায় এলে শিল্পায়নের ফলে রাজ্যে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নাগরিকত্ব বিল বাস্তবায়িত করা এবং রাজ্যে নাগরিক পঞ্জি নির্মাণের সম্ভাবনার কথা প্রচারে তুলে ধরার জন্য।
তৃণমূল অবশ্য বিজেপির এই সব পরিকল্পনাকে খুব একটা পাত্তা দিতে নারাজ। তাদের বিশ্বাস, বিজেপির এ রাজ্যে ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা ধূলিসাৎ করে দুরন্ত প্রত্যাবর্তন করবে তৃণমূল।
লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ৪০.৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে। বর্তমানে ছয়টি বিধানসভা আসন তাদের দখলে রয়েছে।
বিজেপির সাধারণ সম্পাদক এবং রাজ্য বিজেপির সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে বলেন, “লোকসভায় আমাদের লক্ষ্য ছিল ২৩টি আসন, জিতেছি ১৮টিতে। এবার আমাদের লক্ষ্য বিধানসভায় ২৫০ আসন।”
তিনি বলেন, “আমরা আমাদের নির্বাচনী কৌশল ঠিক করে ওই লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য কাজ শুরু করে দেব।”
লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলে রাতারাতি বিজেপির উত্থান হয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল ২০১৪ লোকসভা নির্বাচনে ৩৪টি আসনে জয়লাভ করেছিল। তারা নেমে এসেছে ২২-এ। কংগ্রেস ৪ থেকে ২-এ নেমেছে। বামেরা খাতাই খুলতে পারেনি।
কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে বিজেপি সূত্র থেকে জানা গেছে, দলের রাজ্য সংগঠন বিধানসভা দখলে তাদের কৌশল তৈরি করছে।
তৃণমূল নেতা মনিরুল ইসলামকে দলে নেওয়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। তাকে দলে নেওয়ার পরে বিজেপির রাজ্য সংগঠন কার্যত দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত মনিরুলকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়।
বিজেপি নেতা কৈলাস জানাচ্ছেন, “মনিরুলের অন্তর্ভুক্তি থেকে ভুল বার্তা যাচ্ছিল। আমরা নিজেদের ভালো বিকল্প হিসেবে দেখাতে চাই। তৃণমূলের অবিকল প্রতিলিপি হিসেবে নয়।”
দলের পক্ষ থেকে পরিকল্পনা করা হয়েছে, বিধানসভা অঞ্চলগুলোকে এ, বি, সি, ডি অঞ্চলে ভাগ করা হবে। লোকসভা নির্বাচনে কোথায় কেমন ফল করেছে বিজেপি, সেই অনুসারে এই ভাগ করা হবে।
সূত্র জানাচ্ছে, যে ১৩০টি আসনে বিজেপি এগিয়ে রয়েছে সেগুলো ‘এ’। যে ৬৫টি আসনে খুব কম ব্যবধানে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সেগুলি ‘বি’। বড় ব্যবধানে দ্বিতীয় হওয়া আসনগুলি ‘সি’। আর যেখানে তারা তৃতীয়, সেগুলি ‘ডি’ ক্যাটাগরিতে থাকছে। নির্বাচনে বিশেষ করে ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’ অঞ্চলগুলোকে ফোকাস করা হবে।
ওই তিন ক্যাটাগরিতে জয় নিশ্চিত করার ব্যাপারে চেষ্টা করা হবে জানিয়ে কৈলাস বলেন, “শিল্প নির্বাচনের হাতিয়ার হতে পারে, বিশেষ করে সিঙ্গুরের মতো এলাকাতে। ওখানে টাটা মোটর তাদের কারখানা নির্মাণ সম্পূর্ণ করতে পারেনি তৃণমূলের খারাপ রাজনীতির জন্য।”
সীমান্তবর্তী এলাকা ও জেলাগুলোতে নাগরিকত্ব বিলের মাধ্যমে উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্ব প্রদান ও নাগরিক পঞ্জি তৈরি করে অনুপ্রবেশকারীদের দেশ থেকে বের করে দেওয়ার ব্যাপারে প্রচার চালানো হবে।
এছাড়া ১৮ সাংসদ, ৬ বিধায়ক ও যে পৌরসভাগুলো দলের নিয়ন্ত্রণে এসেছে, সেগুলোকেই উন্নয়নের মডেল তৈরি করে জনগণের কাছে বিজেপির ভাবমূর্তি মজবুত করা দলের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে।