কিংবদন্তি পপশিল্পী বব মার্লের গানে বিশ্বব্যাপী আলোড়িত হয় গাঁজা সেবনের বিষয়টি। প্রাচীন উদ্ভিদজাত এ নেশাদ্রব্যকে বৈধকরণের জন্য ৫০ বছর আগে আন্দোলনে হাওয়া লাগিয়েছিলেন এ জ্যামাইকান শিল্পী।
গাঞ্জা গান, আই স্মোক টু জয়েন্টস, গাঞ্জা বেইব-সহ বিখ্যাত গানগুলোতে প্রাকৃতিক এ মাদকদ্রব্যকে এনেছেন মার্লে।
জ্যামাইকানরা গাঁজাকে ‘গাঞ্জা’ বলে থাকে। সেটিই মার্লের গানে ওঠে আসে। তিনি ছিলেন রাস্তাফারাই মতাদর্শের অনুসারী। ৩০ এর দশকে জ্যামাইকাতে এ মতাদর্শ গড়ে উঠেছিল জটাচুল, গাঁজা বা ক্যানাবিস সেবন এবং রেগে মিউজিকের চর্চার মধ্য দিয়ে।
৭০ এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রে পশ্চিমা সিগারেট কোম্পানির বাজার ধরার পথ সহজতর করে দিতে গাঁজাকে অবৈধ করে আইন পাস করা হয়। বছর দশকের মধ্যে সামাজিকভাবে এটি অবৈধ হিসাবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়।
অন্যান্য রাস্তাফারিয়ানদের মতো বব মার্লে সেবন করতেন পুরোনো এক গাঁজা। নিষিধাজ্ঞার বেড়াজালে পড়ে সেই গাঁজা পৃথিবী থেকেই অনেকটা হারিয়ে গেছে এখন। জ্যামাইকার দুষ্প্রাপ্য উদ্ভিদ হিসাবে কোথাও দেখা যায় না ‘সুপ্রিম গাঞ্জা’ নামে এ নেশাদ্রব্যের।
তবে মার্লের এই বিখ্যাত গাঁজা ফিরিয়ে আনতে প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন দেশটিরই এক গবেষক ড. ম্যাকেল এমানুয়েল।
বার্তা সংস্থা এএফপিকে তিনি বলেন, “৫০ থেকে ৭০ দশক জুড়ে কৃষিজাত পণ্য উৎপাদনে ও ভূমি উর্বরতার দিকে জ্যামাইকার সুনাম ছড়িয়ে পড়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও।”
সেসময়ই হারিয়ে যায় সুপ্রিম গাঞ্জা। নিষেধাজ্ঞা ছাড়াও কী কারণে এটির অস্তিত্ব বিলোপ হয় তা অনুসন্ধান করছেন বলে এ গবেষক জানান।
কিংসটনে ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্ট ইন্ডিজের বায়োলজি ডিপার্টমেন্টের অধীনে তিনি গড়ে তুলেছেন একটি প্রাকৃতিক ল্যাবরেটরি। সেখানে আম, লিচু সহ অন্যান্য ফলের প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে উৎপাদন নিয়ে তিনি গবেষণা করছেন। পাশাপাশি সেখানে সুপ্রিম গাঞ্জা নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন মার্লের সেই গাঁজাকে।
গবেষণার কাজে তিনি ক্যারিবীয় দ্বীপের গুয়াডেলোপ, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড ডমিনিকসহ অনেক জায়গায় দিনের দিন ঘুরে বেড়িয়েছেন পুরোনো রাস্তাফারিয়ানদের খোঁজে। এমনকি ৬ ঘণ্টা পাহাড় চড়ে সন্ধান পেয়েছেন, ৪০ বছর ধরে আত্মনিমগ্ন থাকা এক রাস্তাফারিয়ানের। তার কাছ থেকে খুঁজে এনেছেন সুপ্রিম গাঞ্জার চারা।
এখন ল্যাবের মধ্যে উপযুক্ত পরিবেশ, মাটি ও পরিচর্যার মধ্য দিয়ে মার্লের সেই বিখ্যাত নেশাদ্রব্য ফিরিয়ে আনছেন তিনি।
ইতিমধ্যে চিকিৎসা ক্ষেত্রে ওষুধ হিসাবে অনেক দেশেই গাঁজাকে বৈধতা দেওয়া হচ্ছে। মূলত আদিম, বিশুদ্ধ গাঁজা হিসাবে ভোক্তাদের আকৃষ্ট করতেই সুপ্রিম গাঞ্জাকে নিয়ে অনুসন্ধানে নামেন এ গবেষক।