ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচে একটা জিনিস পরিষ্কার। আমরাই ওদের ৩৮৬ রান করতে দিয়েছি। ১ থেকে ১০ ওভার, ১০ থেকে ২০ ওভার, ২০ থেকে ৩০, ৩০ থেকে ৪০। এরপর ৪০ থেকে ৫০ ওভারের মধ্যে আমরা ১১১ রান দিয়েছি। প্রথম দুই-চার ওভার হয়তো একটু ঠিক ছিল। কিন্তু তারপর থেকে কখনো মনে হয়নি যে আমরা ওদের উইকেট নিতে পারব বা কিছু করতে পারব।
আসল কথা হলো আমাদের বলে গতি নেই। কিন্তু গতি না থাকলে কী করা উচিত? আউট সুইং করব, নিখুঁত বোলিং করব, লাইন-লেন্থ ঠিক রেখে বল ফেলব। এর কোনো কিছুই আমাদের বোলিংয়ে ছিল না। আমার মতে, আন্তর্জাতিক মানের তো নয়ই বরং তার চেয়ে অনেক নিচের মানের বল আমরা করেছি।
ফিল্ডিংয়ে মিস হতেই পারে। কিন্তু আমরা অনেক ২ রান দিয়েছি। আমাদের থ্রো নেই। আমরা ঠিকমতো দৌড়াতে পারছি না। এই জিনিসটা টুর্নামেন্টে আমাদের ভোগাবে বলে মনে হচ্ছে। কার্ডিফের মাঠটা বড় ছিল না। কিন্তু যে সাইডে চওড়া ছিল সেদিকটা অনুমান করতে পারেনি ফিল্ডাররা।
টস জিতে ফিল্ডিং নেওয়া নিয়ে আসলে কিছু বলার নেই। মেঘলা ছিল। ঘাস ছিল উইকেটে। এই অবস্থায় ওদের যে কুইক বোলার আছে তাদের মুখোমুখি না হওয়াটাই ভালো ছিল। দুজন ইংলিশ বোলার আছে ১৫০-এ বল করার মতো। আর কন্ডিশনের অ্যাডভান্টেজ ওদের না দিয়ে আমাদের স্পিনার বা পেসার যেই হোক তাদের নিয়েই নেওয়া ঠিক ছিল।
তাড়া করার শুরুতেই সৌম্য সরকার ও তামিম ইকবাল আউট না হলেও অত রান করা আমাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। হয়তো আমরা ৩২০ রানের মতো করতাম। কিন্তু মুশফিকুর রহিমের আউটটা পিছিয়ে দিয়েছে। তামিমের রান না করাটা ভোগাচ্ছে দলকে। ও অ্যাটাকিং ছিল। এখন ডিফেন্সিভ। ও সারা জীবন আগ্রাসী ব্যাটিং করেছে। এখন ভূমিকা পরিবর্তন করায় ওর টেকনিকে প্রভাব ফেলছে।
একাদশে আসা যাক। আগে বলেছিলাম, মোহাম্মদ মিঠুনকে আরেকটা ম্যাচ দেখা যেতে পারে। তিনটি ম্যাচ ওর হয়ে গেল। এখন লিটন দাস কিংবা সাব্বিরের কেউ আসতে পারে। লিটন খেললে ওপরে খেলবে না ছয় কিংবা পাঁচে খেলবে সেটা নিয়েও ভাবা উচিত। আবার রুবেল হোসেনের মতো কুইক বোলারের কথাও ভাবা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন আনতে হবে।
কিন্তু এখানে কথা হলো ব্রিস্টলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আগামীকালের ম্যাচে উইকেটে যদি ঘাস থাকে তাহলে চোখ বুজে রুবেলকে নেওয়া উচিত। একজন বোলারকে ড্রপ দিয়েও খেলানো যেতে পারে। আর উইকেটে পুরো ব্যাটিংয়ের হলে আক্রমণের জন্য একজন ব্যাটসম্যান বাড়ানোই ভালো হবে।
তিন ম্যাচের দুটি হেরে গেলেও বাংলাদেশের এখনো সেমিফাইনালে খেলার সুযোগ আছে। চারটি ম্যাচ যদি জিততে পারি। কিন্তু কাজটা কঠিন। বলব, ফিল্ডিং-বোলিংয়ের অবস্থা যদি এমনটা থাকে তাহলে কোনো সুযোগই থাকবে না। ৩০০ রান করেও হারলে কোয়ালিফাই করার সুযোগ থাকবে না। সত্যি বলতে আরেকটা ম্যাচ হারলেই আমাদের ভাঙন শুরু হবে।
সাকিব আল হাসানের সেঞ্চুরিটা আমার দেখা ওর সেরা ব্যাটিং। ওদের এত ভালো বোলিংকেও ও ডমিনেট করেছে। কেউ ওর বিপক্ষে দাঁড়াতে পারেনি। আসলে ও যেভাবে ব্যাট করছে তা অন্যদের সাহস জোগানোর কথা। ১৫০-১৫২ গতির বল সাবলীলভাবে খেলেছে ও। যেখানে তামিম-সৌম্যরাও দাঁড়াতে পারেনি। আরও পেস, বাউন্সার সামলাতে হবে। সাকিবের ইনিংস আসলে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মানসিকভাবে উদ্দীপ্ত করা উচিত। উপলব্ধি করা উচিত যে আমাদের সামর্থ্য আছে।