যোগী আদিত্যনাথ থেকে শুরু করে গিরিরাজ ও সাধ্বী প্রজ্ঞা- বেফাঁস ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দিয়ে বিজেপির কোন নেতা নেই বিতর্কের কেন্দ্রে। এবার তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন উত্তরপ্রদেশের যোগী সরকারের মন্ত্রী উপেন্দ্র তিওয়ারি।
নাবালিকাদের ক্ষেত্রে ধর্ষণের বিষয়টি স্বীকার করলেও বয়স্ক ও বিবাহিতদের ক্ষেত্রে নিজস্ব ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিজেপির এই নেতা।
উত্তরপ্রদেশের যোগী সরকারের পানিসম্পদ, খনিজ ও পরিবেশমন্ত্রী বলেন, “প্রতিটি ধর্ষণের নিজস্ব প্রকৃতি রয়েছে। নাবালিকাদের ক্ষেত্রে যেটা ধর্ষণ, মধ্যবয়স্ক বা বিবাহিত মহিলাদের ক্ষেত্রে কিন্তু ধর্ষণ বিষয়টা অন্য ব্যাপার।”
তিনি বলেন, “কোনো নাবালিকা ধর্ষণের শিকার হলে সেটাকে ধর্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা যায়। কিন্তু আমরা এখন শুনছি, ৩০-৩৫ বছর বয়সের বিবাহিত নারী...৭/৮ বছর ধরে সম্পর্ক আছে এমন নারীরাও নাকি ধর্ষণের মতো ঘটনার শিকার হচ্ছেন। এক্ষেত্রে কিন্তু কিছু কথা উঠতে পারে।”
এমন সময় উপেন্দ্র তিওয়ারি এই মন্তব্য করেছেন, যখন নারী ও শিশুদের ওপর একের পর এক ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটে চলেছে তার নিজের রাজ্যেই। এই নির্যাতন প্রতিরোধে যোগী সরকার অনেকটাই ব্যাকফুটে।
উন্নাও থেকে শুরু করে সাম্প্রতিককালে আলিগড়ের মতো ধর্ষণের ঘটনায় বারবার সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে। গত ৩০ মে দুই বছরের এক শিশুকে অপহরণ করে খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে উত্তর প্রদেশের আলিগড়ে। তিন দিন পর আস্তাকুঁড় থেকে উদ্ধার হয়েছে ওই শিশুটির পচাগলা দেহ।
তবে ধর্ষণ সম্পর্কে নিজের রুচিবোধের পরিচয় দিয়েই থেমে যাননি উপেন্দ্র তিওয়ারি। টুইটারে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ সম্পর্কে অপমানজনক ভিডিও আপলোডের অপরাধে যে সাংবাদিককে গ্রেপ্তার হতে হয়েছে, সেই বিষয়েও মুখ খুলেছেন তিনি।
মন্ত্রীর পরামর্শ, সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের আরও দায়িত্ববান হওয়া উচিত। সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো ঘটনা আপলোড করার আগে তথ্য যাচাই করে দেখা প্রয়োজন।