মাহমুদউল্লাহকে কাজে লাগানো জরুরি

আমরা যেমন ভালো ক্রিকেট খেলছি তাতে আজ শ্রীলঙ্কাকে হারানোর সম্ভাবনাই বেশি। কিন্তু দুর্ভাগ্যের ব্যাপার হতে পারে যদি বৃষ্টিতে খেলাটা না হয়। পয়েন্ট ভাগাভাগি হয়ে গেলে আমাদের জন্য মোটেও তা ভালো ব্যাপার হবে না।

ব্রিস্টলে আজকের খেলাটা হবে ধরে নিয়ে বলি বাংলাদেশ দল কিন্তু শ্রীলঙ্কার চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকবে। স্বাভাবিকভাবে। বেশ কিছু সিরিজে লঙ্কানদের আমরা হারিয়েছি। এই অ্যাডভান্টেজটা আমাদের থাকবে। মাঠে নামার সময় ওদের মাথায় নিশ্চয়ই একটা ব্যাপার কাজ করবে। আর তা হলো বাংলাদেশের বিপক্ষে হেরেই এই বিশ্বকাপে আবার তাদের বিপক্ষে খেলছে। এটা অবশ্যই ওদের জন্য একটা মাইনাস পয়েন্ট হিসেবে কাজ করবে। আর বাংলাদেশ দল হিসেবে যেভাবে খেলছে সেই তুলনায় লঙ্কানরা অত ভালো খেলতে পারছে না। এসব যদি হিসাব করেন আর সঙ্গে যোগ করেন আমাদের শক্তি, তাহলে? সাকিব আল হাসান খুব ভালো ব্যাট করছে। সৌম্য সরকার হয়তো ছোটখাটো শুরু দিচ্ছে, তামিম ইকবালও বড় করতে পারছে না ইনিংস। কিন্তু তামিম একবার শুরু করলে সেটা অন্যরকম হয়ে দাঁড়াবে। মিডল অর্ডারে সাকিব-মুশফিকুর রহিম যেভাবে খেলছে তাতে এরপর আর দুয়েকজন ব্যাটসম্যান যদি ওদের সাপোর্ট দেয় তাহলে শ্রীলঙ্কাকে হারানো সহজ হওয়ার কথা।

একটা পরিবর্তন আমাদের দলে দরকার। হবেও আশা করা যায়। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া দলকে দেখুন, উসমান খাজা তিন নম্বরে ব্যাট করছে। ও ওপেন করে সাধারণত। নাম্বার থ্রিতে যে নামে তাকে এক হিসেবে ওপেনই করতে হয়। আমাদের তিন নম্বরে সাকিব দুর্দান্ত খেলছে। আর একজন মোহাম্মদ মিঠুনের বদলে যদি লিটন দাসকে দলে টানেন তাহলে আমার কথা হলো তাকে ওপেনিংয়েই খেলাতে হবে। আমি যতটা দেখেছি তাতে একজন ওপেনারের চার-পাঁচ নম্বরে গিয়ে সফল হওয়ার গল্প খুব কম। তাই লিটনকে চার-পাঁচের জন্য বিবেচনা করা হলে তা কতটা যৌক্তিক তা আমি জানি না আসলে।

আর এ নিয়ে তো কোনো সংশয় নেই যে আমাদের সবার আগে এখন রুবেল হোসেনকে একাদশে দরকার। বারবার বলছি, রুবেল যে ভালো করবে তার নিশ্চয়তা নেই। কিন্তু ও যে ধাঁচের বোলার তাতে ওর ভালো করার সুযোগ আছে। আমার কথা হলো, ও অনেক ম্যাচ খেলেছে, ম্যাচ জিতিয়েছে। অভিজ্ঞ এমন একজনকে খেলানোই ভালো হবে বলে আমার বিশ্বাস।

বাংলাদেশকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে অবশ্যই ফিল্ডিংয়ে উন্নতি করতে হবে। শেষ ম্যাচে যা ঘটেছে তা আর ঘটতে দেওয়া যাবে না। আমার মনে হয় বেরিয়ে আসবে। কারণ আমি কখনো এমন ফিল্ডিং দেখিনি। সবচেয়ে বড় কথা, বোলিংয়ে আরও সুশৃঙ্খল না হতে পারলে সর্বনাশ। হতেই হবে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বেশিরভাগ ওপরে বল করেছে। জেসন রয় সোজা কয়েকটা চার মারল, ওভার দ্য টপ মারল, কাভারের ওপর দিয়ে মারল। নতুন বলে ডিসিপ্লিন হওয়ার সঙ্গে সিম হিট করা বোলার আমাদের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ইংল্যান্ডের উইকেটে সিমে হিট করলে বল একটু হলেও মুভ করে। আর সেই সামান্য মুভমেন্টও ব্যাটসম্যানকে চিন্তায় ফেলে দেয়। ওই মুভমেন্টটা না থাকলে ব্যাটসম্যান স্বাচ্ছন্দ্যে শট খেলে। যখন দুই-তিনটা বলে এমন মুভমেন্টে বিট হবে তখন চার-পাঁচটা ওভার চিন্তা করে ব্যাট করবে। এভাবে প্রথম দশ ওভারে প্রতিপক্ষকে আটকানো সম্ভব। নইলে ৬০/৭০/৮০ হওয়া কোনো ব্যাপার না। যেটা হচ্ছেও।

যত যাই হোক, এই ম্যাচে আমি বাংলাদেশকে এগিয়ে রাখব। দুটি ম্যাচ হেরেছে ঠিক। ইংল্যান্ড খুব ভালো দল। সবকিছু আবেগ দিয়ে ভাবলে চলবে না। ওদের র‌্যাংকিংয়ের সঙ্গে আমাদের পার্থক্যটা বুঝবেন না? আমার অনেক দূরে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ইংল্যান্ডে খেলা খুব কঠিন। মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা যেটা বলল তার সঙ্গে আমি একমত। ইংল্যান্ডকে কম রানে আটকাতে হলে জেসন রয়কে কম রানে আউট করতে হবে। ওকে কোনোদিক থেকে আটকানো কঠিন।

সাকিব ফর্মে আছে। মুশফিক শেষ ম্যাচেও ভালো একটা জুটি গড়েছে। আমি মিঠুনের জায়গাটা নিয়ে একটু চিন্তিত। মাহমুদউল্লাহ ছয়ে নামে। তিন-চার প্রতিদিন রান করবে না। তখন পাঁচ-ছয়কে রান করতে হবে। আর এসব জায়গায় ভালো করলে আমরা শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সহজে জিতব। মাহমুদউল্লাহকে মনে হয় একটু পেছনে ব্যাট করানো হচ্ছে। ও যখন যাচ্ছে তখন ভাবছে পেছনে মোসাদ্দেক হোসেনের পর আর থাকবে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন আর মেহেদী হাসান মিরাজ। সেদিন ব্রায়ান লারাকেও বলতে শুনলাম, বেসিক যাদের ভালো এবং অভিজ্ঞ তাদের যত তাড়াতাড়ি নামানো যায় তত ভালো। কারণ ওরাই ম্যাচ বের করার জন্য সেরা। মাহমুদউল্লাহ তো অনেক ম্যাচ বের করেছে। ওকে ঠিকমতো ব্যবহার করা খুব গুরুত্বপূর্ণ।