ভিসা বাতিল ঘটনায় এবার ফেরদৌসের পক্ষে দাঁড়ালেন মমতা

ভারতের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর অভিযোগে চিত্রনায়ক ফেরদৌসের ভিসা বাতিল করে তাকে কালো তালিকাভুক্ত করে ভারত। সেসময় বিরোধী দলের অভিযোগ ছিল একজন বিদেশি নাগরিক হয়ে তিনি কেন ভারতের নির্বাচনে অংশ নিলেন। এরপর রাতারাতি ফেরদৌসকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায় ভারত। শুধু তাই নয়, ফেরদৌসের কারণে আটকে যায় আরিফিন শুভসহ আরও অনেক বাংলাদেশি তারকার কলকাতার প্রজেক্টের কাজ।

এদিকে ঘটনার দুই মাস পর মুখ খুললেন পশ্চিম বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্ধ্যোপাধ্যায়। দাঁড়ালেন ফেরদৌসের পাশে। গণমাধ্যম মারফত জানা যায়, কলকাতায় এক সংবাদ সম্মেলনে মমতা বলেন, ‘ভোটের সময় বাংলাদেশ থেকে আমাদের একজন বন্ধু এসেছিলেন। তৃণমূলের মিছিল দেখে তিনি রাস্তায় দাঁড়িয়ে পড়েছিলেন। ব্যাস, অমনি তার ভিসা ক্যানসেল করে দেওয়া হল। এটা কেমন কথা? তার ভিসা বাতিলের কোনো যুক্তি নেই।’

১০ জুন কলকাতায় সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনের সময় ওরা (বিজেপি) বাংলাদেশ থেকে কাদের নিয়ে এসেছিল, এই রাজ্যে কী করিয়েছিল সেটা বরং আপনারা খোঁজ নিন।  মনে রাখবেন (বাংলাদেশ থেকে) ইনফিলট্রেশন (অনুপ্রবেশ) কিন্তু শুধু মাইনরিটিরা (মুসলিমরা) করে না, অন্যরাও করে। তাদেরকে কারা ঢোকালো সেটাও আপনারা দেখুন।’

এদিকে মমতা বন্ধ্যোপাধ্যায়ের এই বক্তব্য পশ্চিমবঙ্গে ফেরদৌসকে নিয়ে কাজ করা পরিচালকদের মনে কিছুটা স্বস্তি বয়ে আনছে। তারা আশা করছেন শিগগিরই হয়তো ফেরদৌসের ভিসা পুনর্বহালের জন্য মমতা উদ্যোগী হবেন।

উল্লেখ্য, গত ১৪ ও ১৫ এপ্রিল ফেরদৌস পশ্চিমবঙ্গের বেশ কয়েকটি এলাকায় দেখা গেছে। ভোট প্রার্থনাসহ খোলা জিপে রোড শো’তে রাজ্যের তিনটি শহরে অংশ নিয়েছেন তিনি। এ সময় তার পাশে কলকাতার জনপ্রিয় চিত্রনায়ক অঙ্কুশ হাজরা, পায়েল সরকারসহ বেশ কিছু তারকাকে দেখা গেছে। এই ঘটনার পরপরই বিজেপির অভিযোগের প্রেক্ষিতে ফেরদৌসের ভিসা বাতিল করে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।