প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী লিওনার্দো দা ভিঞ্চির অন্যতম সেরা কাজ হিসাবে বিবেচনা করা হয় সালভাতর মুনদি (সেভিওর অব দ্য ওয়ার্ল্ড) নামের যিশুখ্রিষ্টের একটি চিত্রকর্মকে। দীর্ঘদিন ধরে কোনো খোঁজ ছিল না ৫০০ বছরের পুরোনো এই ছবির।
২০১৭ সালের নভেম্বরে এক নিলামে রেকর্ড মূল্যে বিক্রি হয় চিত্রকর্মটি। নিউইয়র্কে ছবিটি বিক্রি হয় ৪৫ কোটি ডলারে, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৩৭৬১ কোটি ৯৮ লাখ টাকার চেয়েও বেশি। নিলামে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বেশি মূল্যে বিক্রি হওয়া শিল্পকর্ম এটি।
ছবিটি কেনেন সৌদি রাজপরিবারের সদস্য এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী বদর বিন আবদুল্লাহ বিন মোহাম্মদ বিন ফারহান আল সাউদ। নিলামের ফি সহ এই চিত্রকর্মের মোট দাম পড়ে ৪৫ কোটি ৩ লাখ ডলার। ধারণা করা হচ্ছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানই ভিঞ্চির এই বিখ্যাত ছবির বর্তমান মালিক। মন্ত্রীকে দিয়ে তিনিই এটি কিনেছেন নিলাম থেকে।
ডেইলি মেইল জানায়, রাজপরিবারের একাধিক শীর্ষ সদস্যও মনে করেন সালভেতর মুনদি এখন যুবরাজের সম্পত্তি। তার বিলাসবহুল সুপার ইয়টের দেওয়ালে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে চিত্রকর্মটি।
মোহাম্মদ বিন সালমানের ব্যক্তিগত সেই প্রমোদতরী রয়েছে একটি হেলিপ্যাড এবং একটি সাবমেরিন হ্যাঙ্গার। এতে রয়েছে ১৫ টি সুবিশাল কক্ষ, একটি নাইটক্লাব, সিনেমা হল, ক্লাইম্বিং ওয়াল, সমুদ্রের সংযুক্ত সুইমিং পুল, লাইব্রেরি, স্পা, জিম সহ পানির নিচের জগৎ দেখার ব্যবস্থা। ফোর্বসের অনুসারে, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় তিনটির একটি যুবরাজের এই ইয়ট।
৫০ জন ক্রুর অধীনের পরিচালিত হয় সুপার ইয়টটি। সেই সঙ্গে অত্যাধুনিক নিরাপত্তার চাদরে ঘেরা এ প্রমোদতরী। শিল্প গবেষকদের চোখ এখন যুবরাজের এই ইয়টটির দিকে। তারা আরও নিশ্চিত হতে সার্বক্ষণিক অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন।
৬০ বছর আগে মাত্র ৪৫ পাউন্ডের বিনিময়ে ছবিটি সংগ্রহ করেছিলেন এক ইংরেজ কর্মচারী। পরবর্তীতে ২০০৫ সালে ১০ হাজার ডলারে সেটি কিনে নেন নিউ ইয়র্কের দুই আর্ট ডিলার। চার বছর আগে একজন রুশ সংগ্রাহক ১২৭.৫ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে কিনেছিলেন ছবিটি। ভদকা টাইকুন সেই রুশ ব্যবসায়ী থেকে পরবর্তীতে এটি কিনে নেন সৌদি যুবরাজ।
লিওনার্দো দা ভিঞ্চি ১৫১৯ সালে মারা যান। তার আঁকা ২০টিরও কম শিল্পকর্ম টিকে আছে। এগুলোর একটি সালভাতর মুনদি। ধারণা করা হচ্ছিল, এত যুগ ধরে এটি কারও ব্যক্তিগত সংগ্রহে ছিল।
তবে এ ছবি নিয়ে বিতর্কেরও শেষ নেই। অনেক শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, চিত্রকর্মটি ভিঞ্চির আঁকা নয়। তার কোনো শিক্ষানবিশের চিত্রকর্মটি। তবে ভিঞ্চির আর্ট স্টুডিওতেই তার কোনো ছাত্র ছবিটি এঁকেছিলেন।