উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘আপত্তিকর’ টুইটের অভিযোগে আটক সাংবাদিককে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।
ভারতীয় গণমাধ্যম আজকাল জানায়- মঙ্গলবার এই নির্দেশ দিয়ে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত বলেন, ‘মামলা চলতে পারে। কিন্তু তার জন্য অভিযুক্তকে ১১ দিন জেলে রাখা অর্থহীন’।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ইন্দিরা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অজয় রাস্তোগির অবকাশকালীন এজলাস এই নির্দেশ দিয়ে বলেন, অভিযুক্ত যা টুইট করেছেন তারা তা অনুমোদন করছেন না। কিন্তু সেই কারণে অভিযুক্তকে জেলবন্দী করে রাখার প্রয়োজন নেই।
বিচারপতিরা বলেন, ‘আমরা এমন এক দেশের নাগরিক যেখানে একটা সংবিধান আছে। অভিযুক্তর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেতেই পারে। কিন্তু তাঁকে জেলে রাখার দরকার নেই। স্বাধীনতার অধিকার মৌলিক অধিকার। এই অধিকার প্রশ্নাতীত।’
প্রসঙ্গত, প্রশান্ত কানোজিয়া ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক। তিনি বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে জড়িত। দিল্লি থেকে গ্রেপ্তারের পর প্রশান্তকে লক্ষ্ণৌ পাঠানো হয়েছে।
টুইটার ও ফেসবুকে একটি ভিডিওচিত্র শেয়ার করেছিলেন প্রশান্ত। ওই ভিডিওতে দেখা গেছে-এক নারী যোগী আদিত্যনাথের কার্যালয়ের বাইরে সাংবাদিকদের বলছেন যে, তিনি নাকি মুখ্যমন্ত্রীকে বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়েছেন! প্রশান্তকে তথ্য আইনের ৬৬ ধারায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
একই ধরনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় আরও চারজনকে। এদের মধ্যে রয়েছেন এক নিউজ চ্যানেলের সাংবাদিকেরাও। সেই চ্যানেল বেআইনিভাবে চলছিল বলে রাজ্য পুলিশ তা বন্ধও করে দিয়েছে। প্রশান্তকে ১১ দিন জেল হেফাজতে পাঠানো হয়। সেই গ্রেপ্তারি চ্যালেঞ্জ করে গত সোমবার সুপ্রিম কোর্টে হাজির হন তার স্ত্রী জাগিশা অরোরা। প্রতিবাদ জানান সংবাদ মহল ও সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন। রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তকে এডিটর্স গিল্ড ‘স্বৈরাচারী ও আইনের অপব্যবহার’ বলে অভিহিত করেন।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ জানার পর জাগিশা অরোরা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি খুশি। দেশের সংবিধানের প্রতি আমার বিশ্বাস আছে।’
এদিকে, এ প্রসঙ্গে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এক টুইটে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করে বলেন, অবিলম্বে ওই সাংবাদিককে মুক্তি দেওয়া হোক। রাহুল বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আরএসএস ও বিজেপির মিথ্যা প্রচার যারা করে চলেছেন, যারা ভুয়া খবর প্রচার করছেন, তাদের সবাইকে ধরা হলে বেশির ভাগ খবরের কাগজ ও নিউজ চ্যানেল কর্মী সংকটে পড়বে। উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী বোকার মতো কাজ করছেন। ধৃত সাংবাদিকদের অবিলম্বে ছেড়ে দেওয়া হোক।’