পরকীয়ায় জড়িয়েছেন এমন সন্দেহ থেকে স্ত্রী শম্পা বেগমকে (৩০) খুন করেন বেলাল মিয়া (৩৫)। গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করেন তিনি। শম্পা খুনের পর আত্মগোপনে চলে যান বেলাল। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি তার। গতকাল মঙ্গলবার ভোরে গাইবান্ধার সাদুল্যাপুরের নিজ বাড়ি থেকে বেলালকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তার হওয়ার পর পিবিআইর কাছে স্ত্রীকে খুনের বর্ণনা দিয়েছেন তিনি।
এর আগে চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ঢাকার আশুলিয়ার দুর্গাপুরে নিজ বাসায় খাটের ওপর থেকে শম্পার লাশ উদ্ধার করে আশুলিয়া থানা পুলিশ। এ ঘটনার পরদিন শম্পার চাচা সাইদুল মণ্ডল বাদী হয়ে বেলাল মিয়ার বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। থানা পুলিশ মামলার কোনো কূলকিনারা করতে না পারায় ১২ মার্চ মামলাটি পিবিআইতে স্থানান্তর করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ঢাকা জেলার (উত্তর) এস আই সালেহ ইমরান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মামলাটি হাতে আসার পর কয়েকবার মোবাইলে বেলালের সঙ্গে আমার কথা হয়। কিন্তু প্রতিবারই কৌশলে সে বোঝাতে চাইত যে, শম্পা আত্মহত্যা করেছে। বেলাল জানায়, ঘটনার দিন শম্পা গার্মেন্টসের পিকনিকে গিয়েছিল, কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানতে পারি ওইদিন সে পিকনিকে যায়নি। পরে অনেক চেষ্টা করে বেলালকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে বেলাল প্রথমে জানায়, গার্মেন্টস থেকে এসে সে শম্পাকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলতে দেখেছে। পরে তাকে দ্রুত নিচে নামিয়ে শাশুড়িকে ফোনে বিষয়টি জানায়।’
কিন্তু পরে জেরার মুখে বেলাল হত্যার কথা স্বীকার করে জানিয়ে এসআই সালেহ ইমরান আরও বলেন, ‘শম্পা পরকীয়ায় জড়িয়েছেনÑ এমন সন্দেহ থেকে দুজনের মধ্যে ঝগড়ার এক পর্যায়ে ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধে শম্পাকে হত্যা করেন বেলাল।’