মোবাইল অপারেটরদের সেবা নিয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) গণশুনানিতে নেটওয়ার্ক সমস্যা, কলড্রপ, ইন্টারনেটে ধীরগতি, নিম্নমানের সেবা, প্যাকেজের নামে ‘প্রতারণা’, অতিরিক্ত টাকা কেটে নেওয়া, অহেতুক এসএমএস ও রেডিয়েশন ছড়ানোর অভিযোগ তুলে ধরেছেন গ্রাহকরা।
বুধবার বিটিআরসির গণশুনানিতে ভোগান্তির এ চিত্র তুলে ধরেন গ্রাহকরা। ২০১৬ সালের পর এ গণশুনানির আয়োজন করে বিটিআরসি।
বিটিআরসির চেয়ারম্যান জহুরুল হকের উপস্থিতিতে কর্মকর্তারা এসব অভিযোগের জবাব দেন। তারা বিভিন্ন বিষয়ে সুরাহার পদক্ষেপের কথা জানান এবং ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। বিটিআরসি জানায়, গণশুনানিতে অংশ নেওয়ার জন্য ২৪ মে আবেদন আহ্বান করা হয়। ২০২ জন নিবন্ধন করেন। তাঁদের মোট প্রশ্ন ছিল ১ হাজার ৩১৯টি।
গণশুনানিতে উপস্থিত থেকে গ্রাহকেরা মোট ১৭টি প্রশ্ন করেন। এ ছাড়া আমন্ত্রিত অতিথিদের কাছ থেকে ৩০-৩৫টি প্রশ্ন আসে। বিটিআরসি জানায়, সব প্রশ্ন ও অভিযোগের সুরাহা করে ১৫-২০ দিনের মধ্যে ওয়েবসাইটে দেওয়া হবে।
বিটিআরসির কর্মকর্তারা প্রতিটি প্রশ্নের জবাব দেন। কয়েকটি অভিযোগ সুরাহা না হওয়ায় তা আবার জানানোর অনুরোধ করে সুরাহার আশ্বাস দেন।
বিটিআরসির চেয়ারম্যান বলেন, বিটিআরসি একটি গ্রাহকবান্ধব সরকারি সংস্থা হিসেবে সুপরিচিত। অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে বিটিআরসির কমিশনার মো. আমিনুল হাসান, মো. রেজাউল কাদের, মো. মহিউদ্দিন আহমেদ, সংস্থাটির মহাপরিচালকেরা এবং মোবাইল অপারেটর ও তথ্যপ্রযুক্তি সেবাদাতাদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অবশ্য টেলিযোগাযোগ সেবা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা নিয়ে এ শুনানি হওয়ায় অপারেটরদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ ছিল না।
গ্রাহকদের বিভিন্ন অভিযোগের মধ্যে ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস, ব্যালান্স থেকে টাকা কেটে নেওয়া, ইন্টারনেট প্যাকেজ, গ্রাহক সেবা না পাওয়া, বাধ্যতামূলক অ্যাপ ব্যবহার, নেটওয়ার্ক না থাকা, কলড্রপ, অনাকাঙ্খিত বাণিজ্যিক কল ও মেসেজ, মাশুল আদায় করেও নেবা না পাওয়া ইত্যাদি উঠে আসে।