সেই আমিরের এমন ফেরা!

পারফরম্যান্স ভালো নয়। তাই পাকিস্তানের বিশ্বকাপ দলে শুরুতে রাখাই হলো না মোহাম্মদ আমিরকে। কিন্তু বিশ্বকাপের আগে ইংল্যান্ডের মাটিতে একের পর এক ম্যাচ হারতে থাকল পাকিস্তান। যে কারণে স্কোয়াডে পরিবর্তন আনে দলটি। ফেরানো হয় আমিরসহ তিনজনকে। সেই আমির বিশ্বকাপে এখন আগুন ছড়াচ্ছেন!

বুধবার টাউনটনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৫ উইকেট তুলে নিলেন আমির। ওয়ানডে ক্যারিয়ারেই এই প্রথমবার পাঁচ উইকেট শিকার তার। বিশ্বকাপেও এখন সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির তালিকায় সবার ওপরে আমিরের নাম। ২৭ বছর বয়সী এই তারকার জন্য হাততালি তো দেওয়াই যায়।

শুধু আমিরের বোলিং নয়, বাঁ-হাতি পেসারের চোখে মুখেও আগুন দেখল সবাই। কিছু করে দেখানোর তাড়না ফুটে উঠল তার চোখেমুখে। সেই তাড়না থেকেই রানের পাহাড়ে চড়তে থাকা অস্ট্রেলিয়ার লাগান টানলেন আমির।

৮২ রান করা অ্যারন ফিঞ্চকে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ১৪৬ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন আমির। তবু ওয়ার্নারের সেঞ্চুরিতে চার শ রানের ইঙ্গিত দিচ্ছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে ওয়ার্নার কাটা পড়ার পর ঘুরে গেল ম্যাচের চিত্র।

নায়ক হয়ে দৃশ্য পটে এলেন আমির। ৪৩তম ওভারে ওসমান খাজাকে ফেরালেন। পরের ওভারে তুলে নিলেন শন মার্শের উইকেট। তাতে ২৮৮ রানে ৬ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। নাথান কোল্টার-নাইলকে ওয়াহাব রিয়াজ ও প্যাট কামিন্সকে হাসান আলি শিকার বানান।

এরপর ৪৯তম ওভারে বল করতে এসে আমির তোলেন নিলেন অ্যালক্স ক্যারি ও মিচেল স্টার্ককে। পূরণ করলেন ম্যাচে ৫ উইকেট। অস্ট্রেলিয়াও তাতে এক ওভার বাকি থাকতে গুটিয়ে গেল ৩০৭ রানে।

ম্যাচে আমিরের বোলিং স্পেলটা এমন- ১০-২-৩০-৫। তিন ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়ে সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহকের তালিকায় এখন সবার ওপরে আমিরের নাম।

এই ইংল্যান্ডেই নয় বছর আগে ফিক্সিংয়ে জড়িয়ে থমকে গিয়েছিল আমিরের ক্যারিয়ার। তবে নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরার পর ২০১৭ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে দারুণ পারফরর্ম করেন আমির। পাকিস্তানকে এনে দেন শিরোপা। সেই ইংল্যান্ডেই বিশ্বকাপটাও কি রাঙাবেন আমির?