কঙ্গনা রনৌত অভিযোগ করেছিলেন, ১৩ বছর আগে তার সঙ্গে নিয়মিত ডেট করতেন অভিনেতা আদিত্য পাঞ্চোলি। তখন নাকি বলিউড নায়িকাকে শারীরিক নিগ্রহ করেন। এই অভিযোগ এনে চলতি বছরেই আইনের দ্বারস্থ হয়েছেন ‘কুইন’ তারকা।
এই নিয়ে ডেকান ক্রনিকালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন আদিত্যের স্ত্রী অভিনেত্রী জরিনা ওয়াহাব। সোজাসুজি বললেন, কঙ্গনার মতো মেয়ের সঙ্গে যা করা উচিত তেমনটাই করেছেন আদিত্য।
জরিনা বলেন, “আদিত্যকে আমার থেকে বেশি আর কেউ জানেন না। আমার কাছে কোনো দিনই কিছু লুকাননি। সব ঘটনাই জানিয়েছেন। কীভাবে, কী হয়েছে সবটাই আমার জানা। তাই দায়িত্ব নিয়ে বলছি, যা করেছে ঠিক করেছে।”
তিনি দাবি করেন, “বছরের পর বছর সম্পর্ক টিকে থাকার পর তা কোনো কারণে ভেঙে গেলে কখনোই বলা যায় না যে, যার সঙ্গে সম্পর্ক ছিল সে তাকে ধর্ষণ করেছে। কোনো কারণে সম্পর্ক ভেঙে যেতেই পারে। একজন আরেকজন থেকে বিচ্ছিন্ন হতেই পারেন। তাহলেই একজন সবার সামনে আরেক জনের বিরুদ্ধে বিষ উগরাবে!”
কঙ্গনা বলেছিলেন, অসহায় অবস্থায় কোনো দিশা খুঁজে না পেয়ে ছুটে যান জরিনার কাছেই। জরিনা নাকি তাকে মেয়ের মতো দেখতেন। এ প্রসঙ্গে পিঙ্কভিল্লাকে বর্ষীয়ান অভিনেত্রী বলেন, “এই সমস্ত কথা একেবারেই মিথ্যা। আমার স্বামীর সঙ্গে যে ডেট করছে তাকে আমি আশ্রয় দিতে যাব কেন? আর, যে আমার স্বামীর সঙ্গে প্রেম করছে তাকে আমি মেয়ের মতো দেখবো! আমার কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে?”
১৯৮৬ সালে আদিত্য ও জরিনার বিয়ে হয়। ২০০০ সালের শুরুতে বলিউডে পা রাখেন কঙ্গনা, তখন নাকি তার সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয় অভিনেতার।
পরে ‘আপ কি আদালত’ টিভি শো-এ কঙ্গনা অভিযোগ করেন, আদিত্য নাকি তাকে মারধর করতেন। ২০১৬ সালে এনডিটিভিকে বলেন, “বাবার বয়সী একটা লোক আমাকে রোজ মারত। একদিন এতো জোরে মেরেছিল যে মাথা ঘুরে আমি মেঝেতে পড়ে গেছিলাম। মাথা ফেটে ফিণকি দিয়ে রক্ত ছুটেছিল। সঙ্গে সঙ্গে আমিও চটি দিয়ে এত জোরে মারি যে, তার মাথা ফেটে রক্তাক্ত হয়েছিল সেদিন।”
এর আগেও আদিত্যের নামে এই ধরনের অভিযোগ শোনা যায়। অভিনেত্রী পূজা বেদির গৃহকর্মীকে নাকি একাধিকবার ধর্ষণ করেছিলেন।
আদিত্য ছাড়াও কঙ্গনা অভিযোগ করেন হৃতিক রোশনের বিরুদ্ধে। এই জন্যই নাকি সুজান খানের সঙ্গে ডিভোর্স হয়ে যায় নায়কের। এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাবেক স্বামীর পক্ষে দাঁড়ান সুজান।