পাকিস্তানকে নিয়ে কিছুই বলা যায় না

বাজে ফিল্ডিং ও ক্যাচিংয়ের জন্যই অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে গেছে পাকিস্তান। এতটা নিম্নমানের ফিল্ডিং ও ক্যাচিং ক্রিকেটের এই পর্যায়ে কখনই প্রত্যাশিত নয়। আর তারা এমন বাজে ফিল্ডিংয়ের প্রদর্শনী করেছে এমন একটি দলের বিপক্ষে যারা পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। অস্ট্রেলিয়াকে এত এত সুযোগ দিলে তারা সেটা কাজে লাগাবেই।

টস জিতে উইকেটের সুবিধাটা নিতেই পাকিস্তান বোলিং নিয়েছিল। কিন্তু মোহাম্মদ আমির ছাড়া সেভাবে কেউই জ্বলে উঠতে পারেনি। ফিল্ডিং ও ক্যাচিং বাজে হওয়ায় ফিঞ্চ ও ওয়ার্নার ১৪৬ রানের একটা বড় জুটি করতে পেরেছে। নতুন বলে ভারতীয় বোলাররা যেভাবে অস্ট্রেলিয়ানদের চাপে রেখেছিল, কোনো বল খেলার সুযোগ দেয়নি, আক্রমণাত্মক হতেই দেয়নি। সেটা পাকিস্তানের বোলাররা করতে পারেনি। তারা অনেক বল দিয়েছে মারার জন্য। স্টাম্প টু স্টাম্প বোলিং করতে পারেনি। ওয়ার্নার সাইড স্ট্রোক ভালো খেলে। সে অনেক রুম পেয়েছে। ফিঞ্চও অনেক আগ্রাসী ব্যাটিং করেছে। ৩০ ওভারে দুইশোর ওপর রান দেখে মনে হচ্ছিল তারা ৩৭০-৩৮০ করবে। তবে পাকিস্তানের বোলাররা শেষদিকে ভালো বোলিং করেছে। অস্ট্রেলিয়াও হয়তো ভালো ব্যাট করতে পারেনি বলে রানটা ৩০৭ হয়েছে। আমির যেভাবে বোলিং করেছে তাতে তার ৫ উইকেট পাওয়া প্রাপ্য হয়ে গিয়েছিল। ওয়াহাব রিয়াজও ভালো বোলিং করেছে, কিন্তু তার বলে ক্যাচ পড়ায় তার অবদানটা বোঝা যায়নি।

জবাব দিতে নেমে বাবর আজম ও ইমাম-উল-হক যেভাবে খেলছিল, তখন দেখে মনে হচ্ছিল পাকিস্তান জিতে যাবে। বাবর আজম ব্যাটিংটা যেভাবে করেছে, যে টেকনিকে করেছে, মনে হয়েছে সে অনেকটা যাবে। কিন্তু তার বিদায়ের পর ২০ থেকে ৩০ ওভারের মধ্যে পাকিস্তানের ৪টি উইকেট হারিয়ে ফেলে। তাতে সম্ভাবনা প্রায় শেষ হয়ে যায়। তারপরও ওয়াহাব রিয়াজ ও সরফরাজ খান যখন ব্যাট করছিল, তখনো মনে হয়েছিল পাকিস্তানের সুযোগ আছে। তার আগে হাসান আলি নেমে ঝড়ো ব্যাটিং করেছে। ওকে দেখে মনে হয়েছে আসলাম, মারলাম, চলে গেলাম। এটা না করে একটু ধরে খেলত, উইকেটটা টিকিয়ে রাখত, তাহলে হয়তো পাকিস্তান জিতে যেত। আমি আগেও বলেছিলাম অস্ট্রেলিয়ার জেতার সুযোগ বেশি। তাদের হোমওয়ার্ক খুব ভালো হয় সবসময়। সেই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করে মাঠে। কামিন্স দুর্দান্ত বোলিং করেছে। স্টার্কও ভালো করেছে। এছাড়া রিচার্ডসনের নেওয়া ২টি উইকেটও সহায়তা দিয়েছে। ওয়ার্নার যখন নিষিদ্ধ হয়, তখনো ও ফর্মের তুঙ্গে ছিল। এখনো তুঙ্গে আছে। আইপিএলেও দেখেছি ও অনেক রান করেছে। আমি ওকে বিশ্বের সেরা ১০ জন ব্যাটসম্যানের মধ্যে রাখছি। রুম পেলে ও খুব ভালো খেলে। পাকিস্তানি বোলাররা তাকে সেই সুযোগ করে দিয়েছে। সামনে পাকিস্তান খেলবে ভারতের বিপক্ষে। এই ম্যাচ নিয়ে আগেভাগে কিছু বলা কঠিন। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও পাকিস্তান কোনো আলোচনায় ছিল না। কিন্তু ভারতকে হারিয়ে ঠিকই তারা চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেছে। সুতরাং পাকিস্তানকে নিয়ে কিছুই বলা যাবে না।