গতকাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ-ইংল্যান্ডের ম্যাচে উইন্ডিজের ব্যাটিং দেখে আমি একই সঙ্গে হতাশ এবং আনন্দিত। কারণ পরবর্তী ম্যাচ বাংলাদেশের সঙ্গে। বাংলাদেশ যদি আজকের খেলা দেখে পরিকল্পনা করে তাহলে ভালো হবে। ক্যারিবীয় দলের সিনিয়ররা মনে হলো দায়িত্ব নিয়ে খেলেনি। গেইল বাজেভাবে আউট হয়েছে। শুরু থেকে সে ছন্দে ছিল না। এছাড়া স্কয়ার লেগে ফিল্ডার থাকা সত্ত্বেও সেখানে ক্যাচ দিয়ে আউট হওয়া দৃষ্টিকটু ছিল। যেহেতু শুরু থেকে ছন্দে ছিল না তাই আরও সময় নিয়ে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করা উচিত গেইলের।
তবে মিডল অর্ডারের পুরান-হেটমায়ারের ব্যাটিং আমার পছন্দ হয়েছে। দুজনে অবস্থা বিবেচনা করে দারুণ ব্যাটিং করেছে। হেটমায়ারকে আউট করে জো রুট ইংল্যান্ডকে কাক্সিক্ষত ব্রেক থ্রু এনে দিয়েছে। তবে রাসেলের ব্যাটিং আমাকে বিস্মিত করেছে। ও যখন মাঠে আসে তখনো ৮৪ বলের মতো বাকি ছিল। রাসেলের মতো ব্যাটসম্যান ৫০ বলের মতো খেললে সেঞ্চুরি করা ব্যাপার ছিল না। এসেই দু’ই ছক্কা মেরেছিল। কিন্তু দায়িত্ব না নিয়ে টি-টুয়েন্টির মেজাজে খেলতে গিয়ে নিজের উইকেট বিলিয়েছে। আউট হওয়ার আগের বলেও চার মেরেছিল। এরপর শর্ট বলে মারতে গিয়ে আউট হলো। তার বোঝা উচিত ছিল সেই শেষ স্বীকৃত ব্যাটসম্যান। সিনিয়র হিসেবে এমন অপেশাদারিত্ব ব্যাটিং উইন্ডিজদের জন্য বিপদ হয়েছে। রাসেল যদি দায়িত্ব নিত তাহলে উইন্ডিজদের ইনিংস ২৯০ বা ৩০০-ও ছুঁতে পারত। আমার মনে হয় রাসেল এখনো টি-টুয়েন্টি ফরম্যাট থেকে বেরোতে পারেনি।
গতকালকের উইকেট ভালো ছিল। তবে ইংল্যান্ডের উইকেটে বোলাররা চাইলে শর্ট বল করতে পারে। ইংল্যান্ডের বোলাররা এ ক্ষেত্রে ভালোই সফল হয়েছে। এখানে ব্যাটসম্যানকে দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হয়। নিকোলাস পুরান যেমন দুর্দান্তখেলেছিল। তবে ইংল্যান্ডের বোলারদের আমি অবশ্যই ক্রেডিট দিতে চাই। ওরা দারুণভাবে ক্যারিবীয়দের শর্ট বলে কাবু করেছে। গেইল, পুরান, হেটমায়ার, রাসেল সবাই কিন্তু শর্ট বলে আউট হয়েছে। শর্ট বলের অসাধারণ ব্যবহার করেছে। ওরা বাংলাদেশের জন্য ভালো এক টোটকা দিয়েছে বলে আমার মনে হয়। বাংলাদেশের পরের খেলা উইন্ডিজদের সঙ্গে। রুবেলের মতো পেস বোলার যদি খেলে তাহলে আমার মনে হয় ওদের পেস বলে বিপদে ফেলতে পারব।
বিশ্বকাপের আগে উইন্ডিজের শেই হোপকে নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে নিজেকে এখনো মেলে ধরতে পারেনি সে। সেদিক থেকে পুরান, হেটমায়ার এরা ভালো খেলার চেষ্টা করেছে। তবে আমি শুরুতে যেমন বলেছি, সিনিয়রদের দায়িত্ব নেওয়া উচিত ছিল এখনো তাই বলতে চাই। লারাও কমেন্ট্রিতে সিনিয়রদের দায়িত্ব নেওয়ার কথা বলেছে। ক্রিজে সেট হয়ে গেইল, রাসেল যদি উইকেট না বিলিয়ে দিয়ে আসত তাহলে ছোট একটা পার্টনারশিপ কিন্তু ২৮০-২৯০ রানের স্কোর দিতে পারত। উইন্ডিজ ব্যাটসম্যানরা অবিবেচকের মতো আর্চার, উডের রণকৌশলের ফাঁদে পা দিয়েছে।
ইংল্যান্ড-উইন্ডিজ ম্যাচে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছিল জোফরা আর্চারকে নিয়ে। আমার মনে হলো সে দারুণভাবে সেই চাপ সামলেছে। আর্চার কিন্তু এই দলের কিছু খেলোয়াড়ের সঙ্গে খেলে এসেছে। তাই আমার মনে হয় সে ইংল্যান্ড দলের মিটিংয়ে তাদের দুর্বলতা সম্পর্কে বলেছে। সাধারণত এক দলে খেলে গিয়ে অন্য দলে থিতু হলে আগের দলের দুর্বলতা নিয়ে ছক তৈরি করা যায়। আর্চার ছাড়াও ওকস, উড, প্লাঙ্কেটও ভালো বোলিং করেছে।