আষাঢ়ের প্রথম বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতায় ভোগান্তি পোহাল চট্টগ্রাম নগরবাসী। গতকাল শনিবার দুপুরে মাঝারি বৃষ্টিপাতে গত কয়েক দিনের তীব্র গরম থেকে স্বস্তি মিললেও বিভিন্ন এলাকা হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে তলিয়ে যায়। সড়কজুড়ে জলাবদ্ধতার পাশাপাশি এদিন পানি ঢুকে পড়ে নিম্নাঞ্চলের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িতে। পানি জমে যান চলাচলে বিঘœ ঘটে আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারে।
জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষের (সিডিএ) ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের পাশাপাশি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলছে না নগরবাসীর। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে গতকাল কয়েকজন বলেন, শুধু বর্ষাকাল নয়, স্বাভাবিক সময়েও বৃষ্টি হলেই নগরের বিভিন্ন এলাকায় পানি ওঠে। এ যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেওয়ার যেন কেউ নেই।
গতকাল বেলা দেড়টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত থেমে থেমে হওয়া বৃষ্টিতে নগরের ২ নম্বর গেট, মুরাদপুর, জিইসি মোড়, প্রবর্তক মোড়, সিঅ্যান্ডবি কলোনির মোড়, হালিশহর, নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটি, আগ্রাবাদ, ঈদগাও, বিবিরহাট, কাতালগঞ্জ আবাসিক এলাকা, শুলকবহর, বাদুরতলা, ষোলশহর, বহদ্দারহাট ফরিদারপাড়া, তালতলা, বাকলিয়া, খাতুনগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়ে স্থানীয় মানুষ ও পথচারীরা।
জানতে চাইলে নগরীর আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ ফরিদ আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, শনিবার বেলা দেড়টা থেকে দুইটা পর্যন্ত মাঝারি আকারের বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে ১৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। একই সঙ্গে ৬৭ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যায়।
নগরের কাতালগঞ্জ আবাসিক এলাকার বাসিন্দা ফরহাদ হোসেন বলেন, এই বর্ষায় প্রথম দিনে দুয়েক ঘণ্টা থেমে থেমে বৃষ্টি হলো। দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
নিম্নাঞ্চলে জমে থাকলেও কিছু এলাকায় বৃষ্টির পানি অল্প সময়ের মধ্যে নেমে যায়। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে নগরের প্রবর্তক মোড় এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, দ্রুতই পানি নেমে গেছে। আগে ঘণ্টাখানেক বৃষ্টি হলে এখানে কোমরসমান পানি জমে যেত। সেই পানি স্থায়ী হতো ঘণ্টাব্যাপী। প্রবর্তক মোড় এলাকার এক ব্যবসায়ী বলেন, কিছুদিন আগে মোড়ের পার্শ্ববর্তী নালা পরিষ্কার করায় পানি দ্রুত চলে যাওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে। এ ছাড়া ২ নম্বর গেট, মুরাদপুর, মুরাদপুর-অক্সিজেন সড়ক, আগ্রাবাদ এলাকায় বৃষ্টির পানিতে দুর্ভোগ পোহায় নগরবাসী। আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারের কিছু অংশেও পানি জমে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয়রা বলে, অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন পাইপ ও তাতে বালি-বর্জ্য জমে পানি চলাচল ব্যাহত হয়। এতে ফ্লাইওভারে গাড়ি চলাচলে বিঘœ ঘটে।