দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগসহ নানা কারণে বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তা ডিআইজি মিজানুর রহমানকে কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না এ নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সর্বোচ্চ আদালত বলেছে, তাকে গ্রেপ্তার না করা জাতির জন্য অশনিসংকেত।
দুদক আইনজীবীকে উদ্দেশ করে আপিল বিভাগ বলেছে, ডিআইজি মিজানকে কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না? তিনি কি দুদকের চাইতে শক্তিশালী?
জনতা ব্যাংকের ৮৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের মামলায় হলমার্ক গ্রুপের চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলামের জামিন বাতিল চেয়ে দুদকের করা আবেদনের ওপর রবিবার শুনানিকালে প্রসঙ্গক্রমে এমন মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত চার বিচারপতির আপিল বিভাগ।
আদালত দুদক আইনজীবী খুরশীদ আলম খানের উদ্দেশে বলে, “আপনাদের ( দুদক) নিজেদের মধ্যে সমস্যা আছে। আপনাদের কর্মকর্তার (খন্দকার এনামুল বাছির) বিরুদ্ধে তথ্য-পাচার ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ব্যবস্থা নিয়েছেন, কিন্তু তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের যে অভিযোগ সে বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেননি।”
একপর্যায়ে আপিল বিভাগ বলে, “ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন? কেন তাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না? এটি জাতির জন্য অশনিসংকেত। তিনি কি দুদকের চাইতে শক্তিশালী?”
এসময় দুদক আইনজীবী আদালতকে জানান, ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তা খতিয়ে দেখতে নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের সত্যতার ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর দুদকের ওই কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
শুনানি শেষে আদালত জেসমিন ইসলামের জামিন বাতিল করে তাকে চার সপ্তাহের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়।
প্রসঙ্গত, ডিআইজি মিজানকে দায়মুক্তি দিতে দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির ৫০ লাখ টাকার ‘চুক্তি’ করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। ডিআইজি মিজানের কাছে একটি গ্যাসচালিত গাড়িও দাবি করেন ওই দুদক কর্মকর্তা।
ঘুষের ৫০ লাখ টাকার মধ্যে ২৫ লাখ টাকা গত ১৫ জানুয়ারি রমনা পার্কে বাজারের ব্যাগে করে নগদে নিয়েছেন এনামুল বাছির। তিনি দুদকের অনুসন্ধান ও তদন্ত-২ অনুবিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন।
ডিআইজি মিজানের দাবি, চুক্তি অনুযায়ী বাকি ২৫ লাখ টাকার মধ্যে ১৫ লাখ টাকা নগদে নিয়েছেন গত ১ ফেব্রুয়ারি। এ ছাড়া ডিআইজি মিজান ও তার স্ত্রীকে দায়মুক্তি দিয়ে ছেলেকে স্কুলে আনা-নেওয়া করার জন্য একটি গাড়ি চেয়েছেন দুদকের এই পরিচালক।
নারী কেলেঙ্কারিসহ নানা অভিযোগে বিতর্কিত ডিআইজি মিজান বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত আছেন। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করছে কমিশন।